কানাডায় হিন্দু মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা, ৩০ সংগঠনের খোলা চিঠি

কানাডায় হিন্দু মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা, ৩০ সংগঠনের খোলা চিঠি

কানাডায় হিন্দু মন্দিরগুলির সামনে খলিস্তানি চরমপন্থীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নিরাপত্তার দাবিতে প্রায় ৩০টি হিন্দু সংগঠন যৌথভাবে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে প্রশাসনকে। ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্র্যাম্পটনের ত্রিবেণী মন্দির এবং সারির লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের বাইরে পরিকল্পিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই বিক্ষোভগুলি আদতে কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ঘৃণা ও হিংসা ছড়ানোর একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে যে, মন্দিরের প্রবেশদ্বারে এই ধরনের জমায়েতের মূল লক্ষ্য হলো পুণ্যার্থীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করা। বিশেষ করে ব্র্যাম্পটনের গত বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে নারী, শিশু ও বয়স্করা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশি নিস্ক্রিয়তা বা দুর্বল পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, মন্দির চত্বর যেখানে শান্তি ও প্রার্থনার জায়গা, সেখানে রাজনৈতিক হুমকি ও ভয় প্রদর্শনের পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পুলিশের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে চারটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, প্রতিটি হিন্দু কানাডিয়ান নাগরিককে তাদের উপাসনালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, কোনো নাগরিক যেন প্রার্থনা করার সময় নিজেকে অসুরক্ষিত মনে না করেন, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। পরিশেষে, পিল ও সারি পুলিশকে পরিস্থিতির দায়বদ্ধতা গ্রহণ করে মন্দির সংলগ্ন এলাকাগুলিকে অবিলম্বে ভয়মুক্ত ও নিরাপদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী হলেও নিজেদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় আপস করতে রাজি নয়। মন্দিরের বাইরে তথাকথিত ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’-এর নামে যে হয়রানি ও হুমকি চলছে, তার ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা রুখতে পুলিশকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক আবহে কানাডায় ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলি মনে করছে, যথাযথ নজরদারি ও কড়া পুলিশি প্রহরার অভাবই চরমপন্থীদের আরও উৎসাহিত করছে। উপাসনালয় এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কানাডিয়ান প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে। সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ডেইল হান্টের এই প্রতিবেদনটি পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের উদ্বেগ প্রতিফলিত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *