কানাডার ইমিগ্রেশন ও ভিসা নিয়মে বড় পরিবর্তন, ফি বাড়লেও থাকছে বিশেষ সুবিধা

কানাডা সরকার তাদের ইমিগ্রেশন ও ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়বে আবেদনকারী নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা ও বিদেশি কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় গতি ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন অনুযায়ী, কানাডার পাসপোর্ট ফি এবং নাগরিকত্ব ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ১০ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের ফি এখন ১৬৩.৫০ কানাডিয়ান ডলার এবং ৫ বছরের জন্য ১২২.৫০০ কানাডিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২৩ কানাডিয়ান ডলার। তবে ফি বাড়লেও আবেদনকারীদের জন্য থাকছে বিশেষ আর্থিক সুরক্ষা।
কানাডা সরকার এখন থেকে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের প্রসেসিং গ্যারান্টি দিচ্ছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ ফি ফেরত দেওয়া হবে। এই স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড নীতি তখনই কার্যকর হবে যখন আবেদনপত্রের সাথে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া থাকবে।
পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে ‘সুপার ভিসা’ প্রোগ্রামের নিয়ম অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে স্পনসররা গত দুই ট্যাক্স বছরের যেকোনো একটির আয় দেখিয়ে আবেদনের যোগ্য হতে পারবেন। এছাড়া আয়সীমা পূরণের সুবিধার্থে বাবা-মা বা দাদা-দাদীর আয়কেও যোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ভিসায় তারা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত কানাডায় বসবাসের সুযোগ পাবেন।
প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে এখন ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা পোষণ করছেন কি না এবং আর্থিকভাবে কতটা স্বাবলম্বী, তা এখন থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বদলে সরাসরি প্রদেশগুলোই যাচাই করবে। ফলে আঞ্চলিক প্রয়োজন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজতর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার নিয়োগকর্তাদের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম সহজ করা হয়েছে। আগে যেখানে মোট কর্মীর ১০ শতাংশ বিদেশি নেওয়া যেত, এখন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ইমিগ্র্যান্টরা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ছয় বছর পর্যন্ত ফেডারেল সেটেলমেন্ট পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।