কার্গিল যুদ্ধের বীরের নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে, চরম বিপাকে প্রাক্তন সেনা জওয়ান

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ তিন দশক দেশের সীমান্ত রক্ষা করার পর প্রাক্তন সেনা জওয়ান আজাদ আলির নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কার্গিল যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে লড়া একজন সৈনিকের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আজাদ আলি ২০৯ নম্বর বুথের স্থায়ী ভোটার ছিলেন। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ‘অপারেশন বিজয়’ এবং ‘অপারেশন পরাক্রম’-এর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিলেন। গত অক্টোবর মাসে তিনি সুবেদার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় নিজের ও পরিবারের আরও দুই সদস্যের নাম না দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান।
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০০২ সাল থেকেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় বৈধভাবে নথিভুক্ত ছিল। প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তালিকা থেকে নাম বাদ গেল, তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে পড়েছেন তাঁরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাক্তন মেজর আজাদ আলি জানান, দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকলেও আজ নিজ দেশেই তাঁকে স্বীকৃতির জন্য লড়তে হচ্ছে।
প্রাক্তন সেনার এই পরিস্থিতি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আজাদ আলির মতে, যদি একজন প্রাক্তন সেনাকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয় হতে পারে। স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং এর প্রতিকারের জন্য ট্রাইবুনালে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন।
নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একজন প্রাক্তন বীর যোদ্ধার নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারে প্রশাসন কতটা তৎপর হয়, এখন সেটাই দেখার। বর্তমানে আজাদ আলি এবং তাঁর পরিবার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় ফেরানোর চেষ্টা করছেন।