কালিয়াচক কাণ্ডে বিডিও অফিসে এনআইএ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে শুরু তদন্ত

মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে সৃষ্ট নজিরবিহীন অশান্তির তদন্তে কোমর বেঁধে নামল এনআইএ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে পৌঁছল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ দল। এর আগে আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে ২৪ জন দুঁদে অফিসার মোথাবাড়ি থানায় গিয়ে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। মূলত এসআইআর কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা ও অশান্তির নেপথ্যে থাকা কারণ খতিয়ে দেখাই এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য।
গত বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে রাত পর্যন্ত কালিয়াচক বিডিও অফিসের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বিষয়টি হাইকোর্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসতেই কড়া অবস্থান নেয় দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে আদালত জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই কড়া বার্তার পরেই দ্রুততার সাথে তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
তদন্তভার গ্রহণ করেই শুক্রবার মালদহে পৌঁছন এনআইএ কর্তারা। বিডিও অফিসে গিয়ে তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের পাশাপাশি তাঁদের বাসভবন এবং প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
রাজ্যে নির্বাচনী আবহে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ইতিপূর্বেই নির্বাচন কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। সিইও এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই দোষীদের চিহ্নিত করতে এনআইএ সক্রিয় হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কালিয়াচক সহ মালদহের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এনআইএ-র এই পদক্ষেপের ফলে মালদহের অশান্তি কাণ্ডে জড়িতদের ওপর চাপ বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।