কালিয়াচক কাণ্ড: মোফাক্কেরুল ও মৌলানা কাদরিকে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কালিয়াচক কাণ্ড: মোফাক্কেরুল ও মৌলানা কাদরিকে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মালদহের কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং মৌলানা কাদরিকে অবিলম্বে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এনআইএ-র হাতে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা জেল হেফাজতেই থাকবেন। একইসঙ্গে মামলার সমস্ত কেস ডায়েরি এবং ধৃত অন্যান্য সন্দেহভাজনদেরও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার কালিয়াচক-২ ব্লকের মোথাবাড়িতে এসআইআর (SIR) প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতার ঘেরাওয়ের জেরে বিডিও অফিসে আটকে পড়েন সাতজন বিচারক, যাদের পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন আগেই এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া এনআইএ-র প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ঘটনায় ৪৩২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকেরই পুরনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি নির্দেশ দেন যে, এনআইএ প্রয়োজনে নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে পারবে। তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়মিত কলকাতার এনআইএ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টে পেশ করতে হবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারির কথা জানানো হলেও, আদালত তাদের অবিলম্বে এনআইএ-র হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ বহাল রাখে।

আদালত আরও জানিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ ও প্রশাসনকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মালদহের এই ঘটনার তদন্তভার এখন পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনে চলে গেল। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *