কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্মের নতুন ক্রেজ এখন ঘোড়সওয়ারি

কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্মের নতুন ক্রেজ এখন ঘোড়সওয়ারি

শ্রীনগর: উপত্যকার পাহাড়ি পথে এখন শুধুই খুরের শব্দ। কয়েক দশক আগের সেই পরিচিত ছবিটা যেন নতুন করে ফিরে আসছে কাশ্মীরে। তবে এবার যাতায়াতের প্রয়োজনে নয়, বরং শখ আর আভিজাত্যের মিশেলে ঘোড়সওয়ারিতে মাতছে উপত্যকার নয়া প্রজন্ম।

বারামুলার ২০ বছর বয়সী তরুণ বাশারত আহমদ ভাট এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। উজবেকিস্তানে ডাক্তারি পড়তে গিয়ে প্রথম ঘোড়ায় চড়ার নেশা জাগে তাঁর। বাশারত জানান, সেখানে সব বয়সের মানুষ নিয়মিত ঘোড়ায় চড়েন। সেই অভ্যাস থেকেই কাশ্মীরে ফিরে একটি ঘোড়া কেনেন তিনি। তাঁকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসেন তাঁর বন্ধুরাও। এখন তাঁরা দলবেঁধে বিদেশি প্রজাতির ঘোড়ায় চড়ে জঙ্গলের পথে পাড়ি দেন। বাশারতের মতে, এটি কেবল শখ নয়, মানসিক চাপ কমানোর এক দারুণ মাধ্যম।

তবে ব্যক্তিগত শখের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিষয়টি এখন পেশাদার রূপ নিতে শুরু করেছে। শ্রীনগরের বাসিন্দা ইবাদুল্লাহ লোন উপত্যকায় চালু করেছেন বিশেষ ঘোড়সওয়ারি প্রশিক্ষণ কোর্স। বর্তমানে ৩০ জনের একটি ব্যাচ নিয়ে পুরোদমে চলছে প্রশিক্ষণ। ইবাদুল্লাহ বলেন, “আমরা অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। পেশাদার প্রশিক্ষকরা এখানে একদম গোড়া থেকে ঘোড়সওয়ারি শেখাচ্ছেন।”

এই আগ্রহের পেছনে ধর্মীয় কারণও কাজ করছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ইবাদুল্লাহর মতে, ইসলামে ঘোড়সওয়ারির বিশেষ গুরুত্ব থাকায় অনেকেই এই বিদ্যায় আগ্রহী হচ্ছেন। রমজান মাসেই কোর্সটি শুরু করার পেছনে এটিই ছিল প্রধান কারণ। ইদের পর এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে, আধুনিক কাশ্মীরের তরুণদের কাছে ঘোড়সওয়ারি এখন এক নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *