কাশ্মীরে ১২০ বছরের পুরনো মোহরা বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করছে ভারত

২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত সরকার। এই রণকৌশলের অংশ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এখন উপত্যকার বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার দিকে নজর দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর দশক থেকে বন্ধ থাকা ১২০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ‘মোহরা পাওয়ার প্রজেক্ট’ পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বুধবার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘জম্মু-কাশ্মীর স্টেট পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এই প্রকল্প সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্টের আধুনিকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেন্ডার আহ্বানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বারামুল্লা জেলার উরি সেক্টরের বোনিয়ারে ঝিলাম নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১৯০৫ সালে এটি যখন চালু হয়, তখন এর ক্ষমতা ছিল প্রায় ৫ মেগাওয়াট। ‘টাইম অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভয়াবহ বন্যায় প্রকল্পটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ মেগাওয়াটে নেমে আসে এবং এক পর্যায়ে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এই প্রকল্পের একটি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং বৈশিষ্ট্য হলো এর ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠের জলপথ। সে যুগে চেকোস্লোভাকিয়া থেকে টারবাইন আনিয়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে রামপুর থেকে মোহরা পর্যন্ত কাঠের চ্যানেলের মাধ্যমে জল নেওয়া হতো। ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩,৫৪০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১১,০০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, মোহরা প্রকল্প তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারত সিন্ধু জল চুক্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে মোহরার মতো প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করায় পাকিস্তান কৌশলগতভাবে চাপে পড়বে। ঝিলাম নদীর জলের ওপর পাকিস্তান বরাবরই নির্ভরশীল। কিষাণগঙ্গার মতো প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তান দীর্ঘদিন আপত্তি জানিয়ে আসলেও, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর ভারত নিজের নদীর জল শতভাগ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন পাকিস্তানের জন্য এক কঠোর কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।