কিম জং উনের ভয়ংকর চাল! আমেরিকা জুড়ে উত্তর কোরিয়ার জালিয়াত জাল

কিম জং উনের ভয়ংকর চাল! আমেরিকা জুড়ে উত্তর কোরিয়ার জালিয়াত জাল

বিশ্ব যখন আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই খোদ মার্কিন মুলুকে নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে উত্তর কোরিয়ার ‘স্পাই’ নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তদন্তে উঠে এসেছে কিম জং উনের প্রশাসনের এক দুর্ধর্ষ ছক। সাধারণ আইটি কর্মী সেজে মার্কিন সংস্থাগুলোতে ঢুকে পড়ছে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা। তাদের মূল লক্ষ্য কেবল অর্থ উপার্জন নয়, বরং সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা পিয়ংইয়ংয়ের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রামে পাঠানো।

চাকরির আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও তথ্য চুরি

তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ২০ জনের একটি দল অন্তত ১ লক্ষ ৬০ হাজার চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিল। পরিচয় গোপন করে তারা বিভিন্ন মার্কিন সংস্থায় উচ্চপদস্থ কাজ বাগিয়ে নিতে সফল হয়। এই তথাকথিত কর্মীরা দিনের শেষে আসলে পিয়ংইয়ংয়ের হয়ে গোয়েন্দাগিরি করছিল। ভার্জিনিয়ার এক নিরাপত্তা সংস্থা ‘নিসোস’ (Nisos) প্রথম এই চক্রের হদিশ পায়। ‘জো’ নামের এক অতি-সক্রিয় প্রার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শুরু হয় তদন্ত। ল্যাপটপ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।

মিসাইল তৈরিতে মার্কিন ডলারের জোগান

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই কর্মীরা বছরে ৩ লক্ষ ডলার বা প্রায় ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করছিল। আশ্চর্যের বিষয়, এই আয়ের ৯০ শতাংশ সরাসরি চলে যেত উত্তর কোরিয়ার সরকারি তহবিলে। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থাগুলোকে টার্গেট করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত গোপন তথ্যও চুরি করেছে এই হ্যাকার ও জালিয়াতরা। সাধারণ সহকর্মীদের মতো চ্যাট বা জিআইএফ শেয়ার করলেও পর্দার আড়ালে তারা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে বড়সড় হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *