কুমারগঞ্জে বালি পাচার নিয়ে রণক্ষেত্র রাজনীতি! বিজেপিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বালি পাচার, কাফ সিরাপ চোরাচালান এবং এলাকার অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলের বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। তবে গেরুয়া শিবিরের এই আক্রমণাত্মক মেজাজকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে পালটা তোপ দেগেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অসাধু কারবারের নেপথ্যে আসলে জড়িয়ে রয়েছে বিজেপির লোকেরাই।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই
বিজেপির জেলা সম্পাদক রজত ঘোষের নেতৃত্বে গেরুয়া শিবির অভিযোগ তুলেছে যে, বিধায়কের প্রচ্ছন্ন মদতেই কুমারগঞ্জে বালি মাফিয়াদের রাজত্ব চলছে। শুধু তাই নয়, সীমান্ত দিয়ে দেদার কাফ সিরাপ পাচার হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি। বিজেপির ‘চার্জশিট’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং পর্যাপ্ত সেতুর অভাব রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার।
এই অভিযোগের সপাট জবাব দিয়ে বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, “বালি বা কাফ সিরাপ পাচারের সাথে তৃণমূলের কোনো কর্মী যুক্ত নয়। প্রশাসন ও পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। বরং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দেখা যাবে এই চক্রের মূল পান্ডা বিজেপির কর্মীরাই।” সীমান্তে চোরাচালান প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “সীমান্তে যদি পাচার হয়েই থাকে, তবে বিএসএফ সেখানে কী করছে? তারা কি ঘুমোচ্ছে?”
উন্নয়নের খতিয়ান বনাম অনুন্নয়নের দাবি
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিধায়ক। ২০১১ সালের আগের বাম জমানার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আগে কুমারগঞ্জের রাস্তাঘাট কেমন ছিল আর এখন কেমন, তা মানুষ নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন। দিকে দিকে পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। আমরা নতুন একটি কলেজ এবং হিমঘর তৈরির জন্য রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”
অন্যদিকে, বিজেপি এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এখনও বহু গ্রামীণ রাস্তা কাঁচা পড়ে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্টে ব্রিজ না হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে আছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, কুমারগঞ্জ দীর্ঘকাল ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রায় ২৮ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল। শাসকদলের এই অভেদ্য দুর্গে ফাটল ধরাতেই বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত ইমেজকে টার্গেট করে ‘চার্জশিট’ রাজনীতি শুরু করেছে। ভোট যত এগিয়ে আসবে, এই কাজিয়া যে আরও তীব্র হবে, তার ইঙ্গিত কুমারগঞ্জের অলিগলিতে স্পষ্ট।