কুলপিতে যোগরঞ্জনের অনুপস্থিতিই কি আইএসএফ-এর তুরুপের তাস? তৃণমূলের বাজি কৃষক মুখ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট। ২০১১ থেকে টানা তিনবারের বিধায়ক অভিজ্ঞ যোগরঞ্জন হালদারকে এবার টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর এই অনুপস্থিতিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে আইএসএফ। দলের জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লাকে প্রার্থী করে সংখ্যালঘু প্রধান এই অঞ্চলে নিজেদের জমি শক্ত করতে মরিয়া ভাইজানের দল। বিগত নির্বাচনে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পাওয়া আইএসএফ এবার বর্তমান বিধায়কের শূন্যতাকে হাতিয়ার করে বাজিমাত করতে চাইছে।
পাল্টা চালে তৃণমূল এবার অভিজ্ঞ রাজনীতিকের বদলে ময়দানে নামিয়েছে এক কৃষক রমণী বর্ণালী ধাড়াকে। অরাজনৈতিক ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘর গোছাতে ব্যস্ত ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী বর্ণালী অবশ্য যোগরঞ্জনের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেই এগোতে চাইছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্করকে নিয়ে দলের অন্দরে বিবাদ ও নীচুতলার কর্মীদের অসন্তোষ গেরুয়া শিবিরের প্রচারকে কিছুটা স্তিমিত করে দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
তিন প্রধান দলের প্রার্থীরাই এবার নতুন মুখ হওয়ায় কুলপির লড়াই এখন জমজমাট। আইএসএফ প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে শাসকদল আক্রমণ শানালেও, উন্নয়নের স্থানীয় ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছে বিরোধীরা। দীর্ঘদিনের বিধায়ক যোগরঞ্জনের ব্যক্তিগত জনসংযোগ কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাধারণ মানুষ নতুন মুখের ওপর কতটা আস্থা রাখেন, তার ওপরই নির্ভর করছে কুলপির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফল।