কুশীনগরে আইসিস জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার রিজওয়ান, বাবার মুখেও সাজার কথা

উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে শনিবার গভীর রাতে এক বড়সড় যৌথ অভিযানে জঙ্গি সংগঠন আইসিস-এর (ISIS) সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে রিজওয়ান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (UP ATS) ও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই অপারেশনটি পরিচালনা করে। গ্রেফতারের পর রিজওয়ানকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্ফোরক পদার্থ আইনের একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রিজওয়ানের গ্রেফতারির পর তার বাবা নিজামুদ্দিনের বয়ান চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নিজামুদ্দিন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার ছেলে যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তবে আইনের নির্ধারিত সাজা পাওয়াই শ্রেয়। তিনি বলেন, “আমরা এই দেশের নাগরিক এবং নিজের দেশকে ভালোবাসি। আমার ছেলে যদি কোনো ভুল করে থাকে, তবে তার শাস্তি হওয়া উচিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কোনো ধরনের বেআইনি বা দেশবিরোধী কার্যকলাপকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রিজওয়ানের নাম প্রথমবার ২০১৬ সালে আইসিস সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রকাশ্যে আসে। সে সময় মহারাষ্ট্র এটিএস তাকে গ্রেফতার করেছিল এবং ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে দিল্লির জেলে বন্দি ছিল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রিজওয়ান নিজের ঠিকানা বদলে একটি ফাস্ট ফুডের দোকান চালাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ কিছু সন্দেহজনক কল করার খবর তদন্তকারীদের হাতে আসায় তার ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সন্দেহ, স্বাভাবিক জীবনের আড়ালে সে পুনরায় জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছিল।
দিল্লি পুলিশ বর্তমানে রিজওয়ানের নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি জানার চেষ্টা করছে। সে কোথা থেকে অর্থ পাচ্ছিল এবং তার সাথে আরও কতজন সন্দেহভাজন যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরও রিজওয়ান যুবকদের বিভ্রান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।