কৃষকদের জন্য মমতার একগুচ্ছ মাস্টারস্ট্রোক

বাংলার অন্নদাতাদের জন্য এবার কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী অর্থবর্ষ থেকেই রাজ্যে চালু হতে চলেছে ৩০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও পৃথক কৃষি বাজেট, যা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নতুন ইস্তেহারে ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকারি নলকূপ ও আরএলআই ব্যবহারের সেচ খরচ সম্পূর্ণ মকুব করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ধানের সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২,৩৬৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যাতে সময়মতো ফসলের দাম পান, তার জন্য ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও বিকেন্দ্রীকৃত ধান সংগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
শুধু চাষবাসই নয়, মৎস্যজীবীদের জন্য বড় চমক হিসেবে ডায়মন্ড হারবারে একটি অত্যাধুনিক ইলিশ হাব গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে রূপোলি শস্যের উৎপাদন ও বিপণন দুইই গতি পাবে। পাশাপাশি চা বলয়ের মানুষদের স্বস্তি দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত গ্রিন টি চা-পাতার ওপর কৃষি আয়কর ও সেস ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
রাজ্যে কৃষিপণ্যের অপচয় রুখতে আরও ৫০টি নতুন হিমঘর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আলু, ভুট্টা ও তৈলবীজ উৎপাদনে বাংলাকে স্বনির্ভর করতে বিশেষ নজর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইস্তেহারে দাবি করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যের বরাদ্দ প্রায় ৯ গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং ২০২১ সাল থেকে বাংলায় কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা শূন্যে নেমে এসেছে। বর্তমানে পাট উৎপাদনে বাংলা দেশের মধ্যে প্রথম এবং মাছ, মাংস ও সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই নতুন ইস্তেহারের ঘোষণায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া কৃষি মহলে।