কৃষ্ণনগরে বিজেপির জেলা কার্যালয় দখলমুক্ত করতে গিয়ে রণক্ষেত্র এলাকা!

কৃষ্ণনগরে বিজেপির জেলা কার্যালয় দখলমুক্ত করতে গিয়ে রণক্ষেত্র এলাকা!

কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রজনী মুখার্জি লেনের দীর্ঘ ৪১ বছরের পুরনো বিজেপি জেলা কার্যালয় ‘শ্যামাপ্রসাদ-দীনদয়াল ভবন’ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল গোটা শহর। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত খালি করা গেল না দলীয় অফিস। পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন করেও পিছু হটতে বাধ্য হলো প্রশাসন। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অবশেষে নাজির ও পুলিশ বাহিনী ফিরে যাওয়ায় আইনি লড়াই এখন এক নতুন মোড় নিল।

আদালতের নির্দেশ বনাম কর্মীদের প্রতিরোধ

স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে মৌখিক চুক্তিতে এই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে জেলা অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। বাড়ির মালিক গৌতম সরকার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৯ সালে উচ্ছেদের অনুমতি পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী সুজাতা সরকার পুনরায় মামলা করলে গত বছর ৩০ এপ্রিল আদালত চূড়ান্ত উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। বুধবার দুপুরে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ এবং আদালত নিযুক্ত নাজির ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

রণক্ষেত্র কৃষ্ণনগর

উচ্ছেদের খবর চাউর হতেই জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের নেতৃত্বে কয়েকশো বিজেপি কর্মী অফিসের সামনে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রজনী মুখার্জি লেন। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ দাবি, সামনেই নির্বাচন, এই মুহূর্তে বিকল্প অফিস ছাড়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় ডিএসপি এবং অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কর্মীদের অনড় অবস্থানের সামনে কার্যত হার মানতে হয় তাঁদের।

আইনি মারপ্যাঁচে থমকে উচ্ছেদ

বিজেপির আইনজীবী সেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বলপূর্বক উচ্ছেদের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। অন্যদিকে, আদালত নিযুক্ত আধিকারিক পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ পুলিশ পিছু হটে।

রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন

ঘটনার পর কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল জানান, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশ গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, বিজেপি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় বিষয়টি পুনরায় আদালতের বিচারাধীন হতে চলেছে। বিজেপির বক্তব্য, নতুন কার্যালয় তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সময় চান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *