কেজরিওয়ালকে সরাতে বিজেপির ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস করলেন ভগবন্ত মান

দিল্লি ও পাঞ্জাবের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়ে বিজেপি ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মান দাবি করেন, আম আদমি পার্টিকে (AAP) রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জনপ্রিয়তা রুখতে গভীর ষড়যন্ত্র জাল বুনেছে বিজেপি। তবে সেই ষড়যন্ত্র এখন দেশের মানুষের সামনে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে গেছে।
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ
ভগবন্ত মান তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দেশে বর্তমানে একনায়কতন্ত্রের রাজনীতি চলছে। পাঞ্জাব এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টির পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন যে, ২০২৭ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাবের মানুষ আপ-কে ১০০টি আসন উপহার দিয়ে বিরোধীদের যোগ্য জবাব দেবে। মানের কথায়, “অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়ারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন বলেই আজ তাঁদের ওপর এত আক্রোশ।”
কেন জেল খাটতে হচ্ছে আপ নেতাদের
মুখ্যমন্ত্রী মান এক চমকপ্রদ তথ্য পেশ করে জানান, কেন একে একে আপ নেতাদের জেলে ঢোকানো হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী—
- সত্যেন্দ্র জৈন: দিল্লির সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা চালু হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যবসা লাটে উঠেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই চক্রান্ত করে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়।
- মণীশ সিসোদিয়া: সরকারি স্কুলের ভোলবদল হওয়ায় বড় বড় বেসরকারি স্কুল ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছিলেন। তাঁরা আর বিজেপিকে মোটা টাকা চাঁদা দিতে পারছিলেন না, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সিসোদিয়াকে।
- অরবিন্দ কেজরিওয়াল: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, ওষুধ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দিল্লির বাজেট ৩০ হাজার কোটি থেকে ৬০ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। নির্বাচনে জেতা আসাম্ভব জেনে বিজেপি মিথ্যে মামলায় পুরো টিমকে বন্দি করেছে।
পাঞ্জাবের সঙ্গে ‘সৎ মা’ সুলভ আচরণ
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মান বলেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ে পাঞ্জাব ৯০ শতাংশ আত্মত্যাগ করেছে। অথচ আজ সেই পাঞ্জাবের প্রাপ্য ৮০০০ কোটি টাকার আরডিএফ (RDF) এবং জিএসটির টাকা আটকে রেখেছে মোদী সরকার। এমনকি ভয়াবহ বন্যার ত্রাণের জন্য ঘোষিত ১৬০০ কোটি টাকার এক পয়সাও পাঞ্জাব পায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জেল থেকে কেজরিওয়ালের বার্তা
জেলে থাকাকালীন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাথে তাঁর সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে মান বলেন, “কেজরিওয়াল নিজের কষ্টের কথা ভাবেন না। তিনি সবসময় জানতে চান পাঞ্জাবের মানুষ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাচ্ছে কি না, কৃষকরা জল পাচ্ছে কি না। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, দুর্নীতি যেই করুক তাকে যেন রেয়াত না করা হয়।”
মান জোর দিয়ে বলেন যে, নদী যেমন নিজের পথ নিজেই করে নেয়, আম আদমি পার্টিকেও কেউ রুখতে পারবে না। জেল থেকে বেরিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল আরও শক্তিশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন এবং দেশের রাজনীতি থেকে ঘৃণা ও মিথ্যের অবসান ঘটাবেন।