কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার স্বস্তি কি তবে স্বল্পস্থায়ী? ট্রায়াল কোর্টের বড় ধাক্কার পর এবার হাইকোর্টে দৌড়ল সিবিআই

দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়! অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়াসহ ২৩ জন অভিযুক্তকে ট্রায়াল কোর্ট বেকসুর খালাস করে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চাল দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। ফলে আপ শিবিরের স্বস্তি যে দীর্ঘস্থায়ী হবে না, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, আবগারি নীতি তৈরিতে কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অসৎ উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিবিআই যে তত্ত্বে এই মামলা সাজিয়েছিল, তা ধোপে টেকেনি। বিচারকের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা নিরেট প্রমাণের বদলে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে ষড়যন্ত্রের গল্প ফাঁদার চেষ্টা করেছে। এমনকি, সিবিআই যেভাবে রাজসাক্ষীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে মামলা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে। বিচারক স্পষ্ট বলেন, রাজসাক্ষী বানিয়ে অন্যদের ফাঁসানোর এই চেষ্টা সাংবিধানিক রক্ষাকবচের পরিপন্থী।
তবে ট্রায়াল কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে সন্তুষ্ট নয় সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার লিগ্যাল টিমের দাবি, রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের এই ডিসচার্জ অর্ডার বা খালাসের আদেশটি আইনত ত্রুটিপূর্ণ। সেই কারণেই হাইকোর্টে এই রায় বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে। সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতিটি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। যদিও বিশেষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সিবিআই প্রথম দর্শনে (Prima Facie) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই দাখিল করতে পারেনি।
মজার বিষয় হলো, আদালত শুধু অভিযুক্তদেরই মুক্তি দেয়নি, উল্টো সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করেছে। সরকারি কর্মচারী কুলদীপ সিংকে অকারণে ১ নম্বর অভিযুক্ত বানানোর জন্য এজেন্সির অতিসক্রিয়তাকে কাঠগড়ায় তুলেছে আদালত। ২০২২ সালের অগস্টে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। এখন হাইকোর্টে সিবিআইয়ের এই নতুন আবেদনের পর রাজধানীর রাজনৈতিক ও আইনি উত্তাপ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।