কেরলে বিজেপির লক্ষ্য পরিবর্তন অমিত শাহের হুঙ্কার ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ আহ্বান

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইস্টার উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে এক বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। কেরলে আসন্ন ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেন। কুনথুনাড়ু থেকে দেওয়া বার্তায় শাহ স্পষ্ট জানান, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং কেরলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার লড়াই। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে এবার রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সময় এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
খ্রিস্টান ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাহ বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই কেরলে এনডিএ জোটের জনসমর্থন ও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি সমৃদ্ধ কেরল গড়ার লক্ষ্যে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন চান। উল্লেখ্য, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-র সাম্প্রতিক সংশোধনী নিয়ে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে অমিত শাহের এই জনসংযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামপন্থীরা রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিজয়ন সরকার নাম পরিবর্তনের এক নতুন ‘স্টার্টআপ’ শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দে চলা প্রকল্পগুলোকে নিজেদের নামে চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে মানুষ এই ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে কোঝিকোড়ে অমিত শাহ এক বিশাল রোড শো পরিচালনা করেন। গেরুয়া টুপি ও দলীয় পতাকা হাতে কয়েক হাজার বিজেপি সমর্থক রাস্তার দু’পাশে ভিড় করেন। ম্যাথোট্টম বিজিত জংশন থেকে নাডুভাট্টম পর্যন্ত এই যাত্রায় শাহ জনগণের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং সমর্থকদের উৎসাহ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ঢাক-ঢোলের তালে উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করে তিনি নিজের প্রচার কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে, কেরল বিধানসভার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নিমোম কেন্দ্রে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ২০১৬ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি, যা ছিল রাজ্যে তাদের প্রথম সাফল্য। ২০২১ সালে সিপিআইএম নেতা ভি. শিবনকুট্টি আসনটি পুনরুদ্ধার করলেও এবার তাঁর সামনে শক্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর। এলডিএফ, ইউডিএফ এবং এনডিএ-র এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পুদুচেরিতেও এনডিএ জোটের সমর্থনে জোয়ার দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন। থিরুনাল্লারে নির্বাচনী রোড শো চলাকালীন তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছেন এবং ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটবে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যগুলোতে আধিপত্য বিস্তারে বিজেপি এখন পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নেমেছে।