কেরল নির্বাচন ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেন এখন আর রাজনৈতিক ইস্যু নয়?

কেরল বিধানসভা নির্বাচনে একসময় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি বড় প্রভাব ফেলত। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে সাদ্দাম হোসেনের সমর্থনে বামপন্থীদের অবস্থান মুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করেছিল। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই চেনা ছবি বদলে গেছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলো এখন ‘কৌশলগত নীরবতা’ পালন করছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে জটিল শিয়া-সুন্নী সমীকরণ এবং কেরলের ভঙ্গুর অর্থনীতি। রাজ্যের অধিকাংশ মুসলিম সুন্নী সম্প্রদায়ের হওয়ায় শিয়া প্রধান ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া কেরলের অর্থনীতি মূলত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ কেরলবাসীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় দলগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক করিডোরও এই নীরবতার অন্যতম কারণ। প্রস্তাবিত ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ কেরলের ভিজিনজাম বন্দরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। আধুনিক ভোটাররা এখন আন্তর্জাতিক আবেগের চেয়ে অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে যে মধ্যপ্রাচ্য একদা নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, আজ তা কেবল পর্দার পেছনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।