কোচবিহারের রাজপথে বিজেপির রথ, হাইভোল্টেজ পরিবর্তন যাত্রায় কাঁপছে উত্তরবঙ্গ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত রণদামামা বাজিয়ে দিল বিজেপি। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা মাঠ থেকে শুরু হলো গেরুয়া শিবিরের বহুচর্চিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’। রবিবাসরীয় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নীতীন নবীন, রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের মতো হেভিওয়েট নেতৃত্বরা।
রাজকীয় সূচনা ও আধ্যাত্মিক ছোঁয়া
কর্মসূচি শুরুর আগে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব কোচবিহারের প্রাণপুরুষ মদনমোহন দেবের মন্দিরে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। এরপর রাসমেলা মাঠে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং পতাকা নেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রথের সূচনা করা হয়। একটি সুসজ্জিত মূল ট্যাবলোর পাশাপাশি ৮টি ছোট প্রচার ট্যাবলো এবং বিশাল এক বাইক বাহিনী নিয়ে এই যাত্রা এগোতে শুরু করে।
যাত্রাপথ ও রণকৌশল
প্রথম দিন রাসমেলা মাঠ থেকে গুঞ্জবাড়ি পর্যন্ত পরিক্রমা করে এই রথ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোল উৎসবের বিরতি কাটিয়ে আগামী ৫ মার্চ খাগড়াবাড়ি হয়ে শীতলকুচিতে পৌঁছাবে এই যাত্রা। সেখান থেকে মাথাভাঙ্গা হয়ে ফের কোচবিহারে ফিরবে রথ। আগামী ৬ মার্চ ঘুঘুমারি, জিরানপুর, বলরামপুর ও তুফানগঞ্জ হয়ে আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রবেশ করবে এই পরিবর্তন যাত্রা। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই সূচিতে দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের অনুপস্থিতি।
আইনি লড়াই ও তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ
এদিনের সভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপি নেতারা। জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ স্পষ্ট জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই সভার আয়োজন করতে হয়েছে।
সুর চড়ালেন নিশীথ-শমিকরা
মঞ্চ থেকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “রাজ্যে লাগামছাড়া দুর্নীতি এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই আমাদের এই লড়াই। মানুষ এই পরিবর্তনের যাত্রায় সামিল হতে মুখিয়ে আছেন।” অন্যদিকে, নীতীন নবীন কোচবিহারের পর উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকেও আরও একটি যাত্রার সূচনা করবেন বলে জানা গেছে।
বিজেপির এই রথযাত্রা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।