কোচবিহারে নয়ে নয়, শীতলকুচির স্মৃতি উস্কে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে জেলার নয়টি আসনেই জোড়াফুলের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের ছয়জন প্রার্থীকে মঞ্চে উপস্থিত রেখে তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে মানুষ দুহাত উজাড় করে তৃণমূল কংগ্রেসকেই আশীর্বাদ করবে এবং কোচবিহারে ‘নয়ে নয়’ নিশ্চিত হবে।
এদিন নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শীতলকুচি গুলিকাণ্ডকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের মদতে সাধারণ ভোটারদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে এবং শীতলকুচি দখলের নেশায় সেদিন নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরানো হয়েছিল। বাংলার মানুষ সেই দৃশ্য আজও ভোলেনি এবং ব্যালট বক্সেই তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
শীতলকুচির জনসভায় ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন যে, বিজেপির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনসমুদ্রের উচ্ছ্বাসকে হাতিয়ার করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের সংগঠন অদূর ভবিষ্যতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে কোচবিহারের মাটি এখন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শীতলকুচির আবেগ ও উন্নয়নের খতিয়ানকে সামনে রেখেই উত্তরবঙ্গে পদ্ম শিবিরকে কড়া টক্কর দিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।