কোচবিহারে ভোটের আগে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে বোমাবাজি

কোচবিহারে ভোটের আগে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে বোমাবাজি

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোচবিহার-১ ব্লকের জলশালা ও ঘুঘুমারি এলাকায় দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও বোমাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাটাবাড়ি বিধানসভার জলশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধোলুয়াবাড়ি এলাকায় বিজেপির অভিযোগ, মোদির সভা থেকে ফেরার পর গভীর রাতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাইক নিয়ে এসে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। বচ্চন ভৌমিক ও বিশ্বজিৎ পাল নামে দুই বিজেপি কর্মীর দাবি, ২০-২৫ জনের একটি দল তাঁদের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর ও গালিগালাজ করে। তবে তৃণমূল নেতা আব্দুল কাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিজেপি কর্মীরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল পাকিয়েছেন।

অন্যদিকে, একই রাতে কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারি এলাকায় তৃণমূলের জেলা মহিলা সভানেত্রী সুচিস্মিতা দেব শর্মার বাড়ির সামনে ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। নেত্রীর দাবি, গভীর রাতে প্রায় ১৫-২০টি বোমা ফাটানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা বোমাও উদ্ধার করেছে। নেত্রীর অভিযোগ, ভোটের আগে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপি নেত্রী দীপা চক্রবর্তী পাল্টা দাবি করেছেন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিজেপিকে বদনাম করছে।

কোচবিহারের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক অশান্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ভীতি ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা বর্তমানে প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অস্থিরতা ভোটের মূল লড়াইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *