কোমায় ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তুঙ্গে জল্পনা

আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের তীব্র সংঘাতের আবহেই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি অচৈতন্য বা কোমায় রয়েছেন বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে কোম শহরে কড়া নিরাপত্তায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।
একটি কূটনৈতিক মেমোর ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই মেমোটি তৈরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে মোজতবা কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, যে বিমান হামলায় তাঁর পিতা তথা প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, সেই একই হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার খবরও রটেছিল। তবে পরবর্তীতে রুশ রাষ্ট্রদূত সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, মোজতবা খামেনি ইরানের ভেতরেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মোজতবা খামেনির অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, খামেনি হয়তো মার্কিন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অথবা অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় আছেন। দীর্ঘকাল ধরে তাঁকে প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে। উল্লেখ্য, আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবাই ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভ করেন।
সূত্রের খবর, ইজরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলা যখন মোজতবার বাসভবনে আঘাত হানে, তার কয়েক মিনিট আগেই তিনি বাগানে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। ফলে সেই যাত্রায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্ষমতাধর দেশের প্রধানের অসুস্থতা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।