ক্যানিংয়ে বিজেপি-তৃণমূল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ভোটের আগেই উত্তপ্ত রণক্ষেত্র

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার বাঁশড়া পঞ্চায়েত এলাকা। বুধবার বিকেলে সংগ্রামীনগরে বিজেপি কার্যকর্তাদের একটি সাংগঠনিক বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ছত্তিশগড়ের বিধায়ক শ্যামলাল রামের উপস্থিতিতে এই বৈঠক চলাকালীন বাড়ির ভেতরে ঢুকে মারধর করা হয়। ঘটনায় পাঁচজন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্রান্তদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান কাশেম সর্দারের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপি কর্মী বাচ্চু মান্নার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন ও দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় এক তৃণমূল সদস্যা ছবি তুলতে গেলে বিবাদের সূত্রপাত হয়। প্রতিবাদ করায় বাচ্চু মান্না, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পদ্ম শিবিরের দাবি, এলাকায় সক্রিয়ভাবে বিজেপি করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পাল্টা অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত দাবি অস্বীকার করেছে। শাসক দলের দাবি, পঞ্চায়েত সদস্যা ঝর্না হালদার দেওয়াল লিখন করার সময় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন এবং শারীরিক নিগ্রহ চালান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের মত। অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারীর উপস্থিতিতে ৪টি বিজেপি পরিবার ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেছে। ভোটের মুখে একদিকে সংঘর্ষ ও অন্যদিকে দলবদলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে।