ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল মেটাতে দেরি হলেই বিপদ, জেনে নিন আইনি সুরক্ষা ও ব্যাংকের অধিকার

বর্তমান সময়ে কেনাকাটা বা জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও সময়মতো বিল না মেটালে পড়তে পারেন চরম আর্থিক সংকটে। বিল মেটাতে দেরি করলে ব্যাংক আপনার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে এবং আপনার অধিকার কতটা, তা প্রতিটি গ্রাহকের জেনে রাখা জরুরি। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার যতটা সুবিধাজনক, এর নিয়ম ভাঙার পরিণতি ততটাই ভয়াবহ হতে পারে।
প্রথমত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না দিলে আপনার ক্রেডিট স্কোর বা সিবিআইএল (CIBIL) দ্রুত কমতে শুরু করে। একবার ক্রেডিট স্কোর খারাপ হলে ভবিষ্যতে হোম লোন, কার লোন বা পার্সোনাল লোন পাওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়ে। ব্যাংক আপনার প্রোফাইলকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্লক করে দিতে পারে।
বিল না মেটালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার ভয় অনেকের মনেই থাকে। তবে আইন অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করা একটি ‘দেওয়ানি মামলা’ (Civil Case), কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। তাই বিল বকেয়া থাকার কারণে পুলিশ আপনাকে সরাসরি গ্রেফতার করতে পারে না। এটি ব্যাংক এবং গ্রাহকের মধ্যে একটি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বকেয়া উদ্ধারে ব্যাংক বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট একই ব্যাংকে থাকে, তবে ব্যাংক আপনার অনুমতি ছাড়াই বকেয়া টাকা সমন্বয় করে নিতে পারে। দীর্ঘকাল বিল অপরিশোধিত থাকলে ব্যাংক আইনি নোটিশ পাঠাতে পারে এবং পাওনা আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে রিকভারি এজেন্ট নিয়োগের সম্ভাবনাও থাকে।
ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বাজারে প্রচলিত অন্য যেকোনো ঋণের চেয়ে অনেক বেশি। সময়মতো বিল না দিলে বার্ষিক ৩৬ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হতে পারে। এর সাথে লেট পেমেন্ট ফি এবং জিএসটি যুক্ত হয়ে ঋণের বোঝা পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সময়ানুবর্তিতা অত্যন্ত জরুরি।