ক্রেডিট কার্ডের বিল না মেটালে কি সত্যিই জেল হতে পারে? জেনে নিন আসল নিয়ম

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান যুগে ক্রেডিট কার্ড বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিল— সবক্ষেত্রেই কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। তবে বিপদ বাধে তখনই, যখন সময়মতো বিল মেটানো সম্ভব হয় না। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া না মেটালে কি পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে?
বিল মেটাতে দেরি হলে কি জেল হয়?
সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের বিল না দেওয়া কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি একটি দেওয়ানি (Civil) মামলা। বিল মেটাতে দেরি হলে ব্যাংক প্রথমে মেসেজ বা কলের মাধ্যমে মনে করিয়ে দেয়। এরপরও টাকা জমা না পড়লে লেট ফি এবং চড়া সুদ যোগ করা হয়। মাসের পর মাস বকেয়া থাকলে ব্যাংক আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। তবে শুধুমাত্র পেমেন্ট দেরি হওয়ার জন্য সরাসরি জেল বা গ্রেফতারির কোনো বিধান নেই।
কখন হতে পারে আইনি জটিলতা বা গ্রেফতারি?
গ্রেফতারির ঝুঁকি তখনই তৈরি হয় যখন বিষয়টি জালিয়াতির পর্যায়ে পড়ে। যেমন:
- কার্ড নেওয়ার সময় জাল নথিপত্র জমা দেওয়া।
- আয়ের ভুল তথ্য প্রদান করা।
- শুরু থেকেই ব্যাংককে ঠকানোর বা টাকা না মেটানোর উদ্দেশ্য থাকা।তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে গ্রাহক ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি করেছেন, তবেই পুলিশি পদক্ষেপ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
বিল না মেটানোর প্রকৃত ক্ষতি
জেল না হলেও সময়মতো বিল না দিলে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি হতে পারে:
- ক্রেডিট স্কোর হ্রাস: একবার স্কোর কমে গেলে ভবিষ্যতে হোম লোন বা কার লোন পাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়ে।
- ঋণের বোঝা: লেট ফি এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে বকেয়া দ্রুত পাহাড়প্রমাণ হয়ে যায়।
- মানসিক চাপ: দীর্ঘসময় টাকা না মেটালে রিকভারি এজেন্টদের ফোন এবং আইনি নোটিশ মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
উপায় কী?
বিল মেটাতে সমস্যা হলে সরাসরি ব্যাংকের সাথে কথা বলে বকেয়া অর্থ কিস্তিতে (EMI) ভাগ করে নেওয়ার আবেদন করুন। অন্তত ‘মিনিমাম ডিউ’ মিটিয়ে ক্রেডিট স্কোর ঠিক রাখার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।