ক্ষমতায় এলেই ১০০ দিনের মধ্যে বিচার পাবেন জুবিন গর্গ, আসামে হুঙ্কার রাহুল গান্ধীর

আসামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার কামরূপে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গকে ১০০ দিনের মধ্যে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে রাহুলের এই ঘোষণা আসামের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে কড়া ভাষায় বিঁধে বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বিদ্বেষ ছড়ানো নেতা। তাঁর মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো তাঁর রাজনৈতিক হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। রাহুল দাবি করেন, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরেই মুখ্যমন্ত্রী এখন বেসামাল হয়ে পড়েছেন এবং জঘন্য ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করছেন।
আসামের অন্যতম জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জুবিন গর্গের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী বলেন, জুবিন সারা জীবন আসামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেছেন। কংগ্রেসের আদর্শের সঙ্গে শিল্পীর জীবনদর্শনের মিল খুঁজে পেয়ে রাহুল জানান, জুবিন গর্গ আসামের আবেগের প্রতীক। তাই কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১০০ দিনের মধ্যে তাঁর প্রতি হওয়া অবিচারের প্রতিকার নিশ্চিত করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাহুল আরও বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সরকারি তহবিল লুণ্ঠন করেছেন। নিজের ঘনিষ্ঠ মহলের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রাহুল। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে আসামের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারের এই জনসভায় রাহুল গান্ধীর হাতে একটি ধনুক ও তীয় তুলে দেওয়া হয়। জনতাকে উৎসাহিত করতে তিনি প্রতিকীভাবে ধনুকে টান দিয়ে লক্ষ্যভেদ করার ভঙ্গিও করেন। রাহুলের কথায়, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের জনগণকে কেবল ধোঁকাই দেননি, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। রাজ্যের মানুষ এবার এই দুর্নীতির যোগ্য জবাব দেবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে রাহুলের এই সফর এবং জুবিন গর্গকে নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আসামের যুবসমাজ ও সাংস্কৃতিক মহলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রচারের শেষ মুহূর্তে বিজেপি সরকারকে এক হাত নিয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কংগ্রেস কেবল পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে না, বরং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার রোডম্যাপও তৈরি রেখেছে।