ক্ষমতায় এলেই CAPF-এর বঞ্চনা শেষ! জওয়ানদের জন্য বড় প্রতিশ্রুতি রাহুল গান্ধীর

সিআরপিএফ শৌর্য দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) জওয়ানদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় এলে সিএপিএফ জওয়ানদের পদোন্নতি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাঞ্জল বৈষম্য দূর করা হবে। রাহুল গান্ধীর মতে, বর্তমানে এই বাহিনীর শীর্ষ পদগুলো বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বাহিনীর নিজস্ব কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না।
প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায় ও নেতৃত্বের সংকট
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, বছরের পর বছর ত্যাগ ও সেবা করার পরেও সিএপিএফ জওয়ানরা সময়মতো পদোন্নতি পান না। বর্তমান ব্যবস্থায় এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তাদের হাতে নেই, যা সরাসরি বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানছে। তার মতে, যারা বাহিনীর ভেতর থেকে উঠে এসেছেন, তারাই জওয়ানদের চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সিএপিএফ-এর নেতৃত্ব এই বাহিনীর নিজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে থাকা জরুরি।
বেতন ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বেতন কাঠামো, কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা এবং সম্মানের ইস্যুগুলোকে রাহুল গান্ধী ‘প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি কেবল কর্মজীবনের প্রশ্ন নয়, বরং এটি জওয়ানদের আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচারের লড়াই। সম্প্রতি সংসদ থেকে পাস হওয়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বল (সাধারণ প্রশাসন) বিল, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যদিও সরকার পক্ষ দাবি করেছে যে এই বিল বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে, বিরোধী পক্ষ এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান।
সীমান্ত রক্ষা ও গণতন্ত্রে সিএপিএফ-এর ভূমিকা
শৌর্য দিবসের বার্তায় রাহুল গান্ধী জওয়ানদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
- সীমান্ত রক্ষায় জওয়ানদের অতন্দ্র প্রহরা দেশবাসীকে নিরাপদ রাখে।
- সন্ত্রাসবাদ এবং নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
- নির্বাচনের মতো গণতন্ত্রের মহোৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জওয়ানদের প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি মনে করেন, দেশের সুরক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ঋণী এবং এখন সময় এসেছে তাদের সঙ্গে প্রকৃত ন্যায়বিচার করার।
একঝলকে
- সিএপিএফ জওয়ানদের পদোন্নতি ও শীর্ষ নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার।
- বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘বৈষম্যমূলক’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত।
- বাহিনীর নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই সিএপিএফ পরিচালনার দাবি।
- কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বল বিল, ২০২৬-এর সমালোচনা।
- সন্ত্রাসবাদ দমন ও নির্বাচন পরিচালনায় জওয়ানদের অবদানের স্বীকৃতি।