ক্ষমতা থাকলে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের মুখোমুখি হোন, অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার

মানিকচকের নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি শাহকে চ্যালেঞ্জ জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, ক্ষমতা থাকলে মানিকচকে দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও তেহট্টের মতো এলাকায় বেছে বেছে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ৫০৬ জন অফিসারকে সরানো হলেও, কেবল বাংলাতেই ৪৮৫ জনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাকে জব্দ করার লক্ষ্যেই এই ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, বিগত চার বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ এবং রাস্তাঘাটের টাকা বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যা বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর চরম অবিচার।
তৃণমূল নেত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানান, ভোট কাটার পাশাপাশি বিজেপির নজর এখন সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ্যাকাউন্ট নম্বর হাতিয়ে নিয়ে সাধারণের জমানো টাকা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তাই কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটারদের আটকানোর চেষ্টা কিংবা প্রশাসনিক চক্রান্ত করে লাভ হবে না; আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটেই বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে বাংলার মানুষ।
বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর লক্ষ্য এখন সরাসরি দিল্লি। বাংলাকে টার্গেট করার পাল্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপাবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। নির্বাচনী আবহে মানিকচকের এই সভা থেকে তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।