ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মধ্যে ১৮০০ কিলোমিটার পথ ইরান থেকে ফিরলেন গাজিয়াবাদের কেতন মেহতা

আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অবৈধ ডিজেল বহনের অভিযোগে দুবাই-ভিত্তিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি ভ্যালিয়েন্ট রোয়ার’ বাজেয়াপ্ত করে ইরান কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় গাজিয়াবাদের কেতন মেহতাসহ দশজন ভারতীয় নাবিককে গ্রেফতার করে গত ৮ ডিসেম্বর ইরানের একটি কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ৫০ দিন জেল খাটার পর তাকে একটি হোটেলে স্থানান্তরিত করা হলেও ইজরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় দেশ ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বন্দর আব্বাসের হোটেলের জানালা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখা এবং প্রতিদিন শয়ে শয়ে বোমাবর্ষণের শব্দে কেতন ও তার সঙ্গীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশে হোটেলে অবরুদ্ধ থাকাকালীন তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছেন। কেতন জানান, তাদের হোটেলের মাত্র কয়েকশো মিটার দূরেই ছিল ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি, যা যুদ্ধের সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
অবশেষে বাসে করে পাহাড়বেষ্টিত ১,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে তারা আর্মেনিয়া সীমান্ত পৌঁছান। ১৮ ঘণ্টার সেই ভয়াবহ যাত্রাপথে ক্রমাগত বিস্ফোরণে বাস কেঁপে উঠলেও ভারতীয় দূতাবাসের সহায়তায় কেতন মেহতা নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে গাজিয়াবাদের বাড়িতে ফিরে তিনি এই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।