খামেনি নিহত হওয়ার পরেও কেন অজেয় ইরান

খামেনি নিহত হওয়ার পরেও কেন অজেয় ইরান

তীব্র যুদ্ধ আর শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর মিছিলেও কেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল না ইরানের শাসনব্যবস্থা তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে বিস্ময় দানা বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় তেহরানের একের পর এক শহর গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো এখনো অটুট। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সেই রহস্যময় ‘সমান্তরাল রাষ্ট্র’ কাঠামো এবং আইআরজিসির লৌহকঠিন নিয়ন্ত্রণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের শাসনপদ্ধতি সাধারণ কোনো সামরিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নিলেও তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। অথচ পর্দার আড়ালে থেকেই দেশটির বিশাল আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রতিটি সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে। এমনকি দেশজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছে তেহরান।

সবচেয়ে বড় চমক সৃষ্টি হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কমান্ড কাঠামো পঙ্গু হওয়ার দাবি করলেন, ঠিক তখনই ভারত মহাসাগরে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে গেল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতেও কে বা কারা এই যুদ্ধের ছক সাজাচ্ছে এবং কীভাবে এখনো প্রতিরোধ জারি রয়েছে, তা নিয়ে গোয়েন্দা মহলে এখন তোলপাড় চলছে। ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাদের শাসনব্যবস্থা কেবল ব্যক্তির ওপর নয়, বরং এক গভীর ও জটিল প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা সহজে ধসে পড়ার নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *