খুনির সংশোধন সম্ভব হলেও সাইবার অপরাধীদের ছাড় নয় সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে যে, একজন খুনিকে সংশোধন করার সুযোগ থাকলেও সাইবার অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা উচিত নয়। সাইবার জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় আদালত এই মন্তব্য করে। বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে যারা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে, তাদের প্রতি কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না।
আদালত এই বিশেষ মামলার অভিযুক্ত সুরজ শ্রীবাস্তবের উদাহরণ টেনে জানায় যে, সাইবার অপরাধীদের কারাগারের এমন সেলে রাখা উচিত যেখানে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের কোনো সুযোগ না থাকে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মতে, এই ধরনের অপরাধীদের মোকাবিলা করার এটিই একমাত্র কার্যকর উপায়। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সুরজ পার্ট-টাইম চাকরির টোপ দিয়ে এক ব্যক্তির থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ১২ মে ২০২৫ থেকে জেলবন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট আগেই তাঁর জামিন নাকচ করেছিল, যে রায়কেই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে সাইবার অপরাধকে একটি ‘সাইলেন্ট ভাইরাস’ বা নীরব ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দেশে সাইবার অপরাধের দাপট আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এটি কেবল সমাজের আর্থিক ক্ষতি করছে না, বরং মানুষের বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের অপরাধীরা নিঃশব্দে সমাজের ক্ষতিসাধন করছে এবং তাদের দ্বারা সাধারণ মানুষকে অনেক বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা অপরাধ করছে তাদের আর হালকাভাবে নেওয়া হবে না।
এদিকে সাইবার জালিয়াতদের দাপট কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, তার প্রমাণ মিলেছে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলাতেও। নয়ডায় সম্প্রতি দুই ব্যক্তির থেকে প্রায় ১.৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার অপরাধীরা। ডিসিপি শৈব্যা গোয়েল জানিয়েছেন, পবন কুমার ভারতী নামক এক ব্যক্তির ইমেল হ্যাক করে তাঁর ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে ৫৯ লক্ষ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অক্ষয় সিং নামে অপর এক ব্যক্তিকে শেয়ার বাজারে লগ্নির প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৯১.৭৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতারকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, শেয়ার বাজারে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে টাকা বিনিয়োগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। যখনই তিনি সেই টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই জালিয়াতিরা তাঁকে ব্লক করে দেয়। এই দুই ঘটনাতেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের এই বড় মাপের জালিয়াতির ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের এখন অনেক বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন। অনলাইন লেনদেন এবং চাকরির প্রলোভনের ক্ষেত্রে এক মুহূর্তের অসাবধানতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।