“খেলা হবে” স্রেফ স্লোগান, কাজের কাজ কিছুই হয়নি! মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ নিতিন নবীনের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর মতে, এই স্লোগানটি ক্রীড়ামোদীদের জন্য নয় বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তার প্রতীক। উত্তরবঙ্গ সফরের সময় মালদহ টাউনে ক্রীড়া ক্লাব এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া উন্নয়নে স্থবিরতার অভিযোগ
নীতিন নবীন অভিযোগ করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছরে খেলাধুলার কোনো প্রকৃত উন্নতি হয়নি। তাঁর মতে, নির্বাচনের সময় ‘খেলা হবে’ বলে আওয়াজ তোলা হলেও তৃণমূল সরকারের আমলে তৃণমূল স্তরে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জাতীয় স্তরের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার কারণ
বিজেপি নেতার দাবি, প্রতিবেশী রাজ্যগুলো যেখানে ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নতি করছে, সেখানে বাংলা তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে। তাঁর বিশ্লেষণের প্রধান দিকগুলো হলো:
- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অভাব: কেন্দ্রে মোদী সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘ফিট ইন্ডিয়া’র মতো প্রকল্পগুলো পশ্চিমবঙ্গে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
- অর্থের অপব্যবহার: কেন্দ্রীয় সরকার ক্রীড়া খাতের জন্য যে অর্থ পাঠায়, তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
- শিল্পের অভাব ও বিনিয়োগের সংকট: রাজ্যে কলকারখানা কমে যাওয়ায় কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) খাতের বিনিয়োগও খেলাধুলায় আসছে না, যা খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তুলনামূলক চিত্র ও আগামী পরিকল্পনা
নীতিন নবীন বলেন, হরিয়ানা, গুজরাট বা বিহারের মতো রাজ্যগুলো খেলাধুলার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছে। মোহনবাগানের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার এই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের যে প্রস্তুতি ভারত নিচ্ছে, তাতে বাংলার তরুণ প্রজন্ম যেন আন্তর্জাতিক স্তরে সুযোগ পায় তার জন্য রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে নীতিন নবীন বলেন, যখন গোটা দেশ ফিট ইন্ডিয়া অভিযানে শামিল হচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী সব কিছুকে ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রীড়া উন্নয়নের বদলে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতে বেশি ব্যস্ত, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।
একঝলকে
অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসের লক্ষ্যে বাংলার যুবকদের প্রস্তত করতে বিজেপি সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
‘খেলা হবে’ স্লোগানকে ক্রীড়া ভাবনার পরিপন্থী ও স্রেফ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আখ্যা।
খেলো ইন্ডিয়া ও ফিট ইন্ডিয়া প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগ।
শিল্পের অভাবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ বা স্পন্সরশিপের সংকট।