গঙ্গার জলেই কি ধুয়ে যায় সাপের বিষ? তান্ত্রিকের নিদানে ১২ ঘণ্টা নদীতে ডুবে মৃত্যু কিশোরের!

গঙ্গার জলেই কি ধুয়ে যায় সাপের বিষ? তান্ত্রিকের নিদানে ১২ ঘণ্টা নদীতে ডুবে মৃত্যু কিশোরের!

উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় কুসংস্কারের এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক চিত্র সামনে এসেছে। সাপে কাটা এক কিশোরকে আধুনিক চিকিৎসার বদলে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা গঙ্গা নদীতে ডুবিয়ে রাখার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব এবং তান্ত্রিকদের অপকৌশলের এক চরম নিদর্শন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তান্ত্রিকের নিদান

আমরোহা জেলার আদমপুর থানা এলাকার বাসিন্দা বছর ১৪-র এক কিশোরকে বিষধর সাপে কামড়ালে তার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তারা এক স্থানীয় তান্ত্রিকের স্মরণাপন্ন হন। ওই তান্ত্রিক দাবি করেন, গঙ্গার পবিত্র জলে দীর্ঘক্ষণ ডুবিয়ে রাখলে শরীর থেকে সাপের বিষ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। এই অযৌক্তিক আশ্বাসে বিশ্বাস করে পরিবারটি কিশোরের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

১২ ঘণ্টার অমানবিক পরীক্ষা

তান্ত্রিকের নির্দেশ মেনে কিশোরটিকে একটি বাঁশের ভেলার সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে গঙ্গা নদীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। অচৈতন্য অবস্থায় ওই কিশোর প্রায় ১২ ঘণ্টা জলের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে এই দৃশ্য দেখছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, উপস্থিত জনতার মধ্যে কেউই এই প্রাণঘাতী কুসংস্কার রুখতে বা কিশোরটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে উদ্যোগী হননি। বরং অনেকের মধ্যেই এই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজ করে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল কাজ করছিল।

বিলম্বিত চিকিৎসা ও মর্মান্তিক মৃত্যু

টানা ১২ ঘণ্টা জলে ডুবে থাকার পর কিশোরের শরীরে কোনো স্পন্দন না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে এবং চিকিৎসার অভাবে ততক্ষণে কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এই ক্ষেত্রে কুসংস্কারের বলি হয়েছে। মৃত্যুর পর ওই কিশোরের দেহ পুনরায় গঙ্গাতেই ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সামাজিক বিশ্লেষণ

এই ঘটনা ভারতীয় গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কারের শিকড়কে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগেও সাধারণ মানুষের একটি অংশ এখনো অবৈজ্ঞানিক ও প্রাণঘাতী তান্ত্রিক প্রথার ওপর নির্ভর করছে। এই ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক নজরদারি এবং বিজ্ঞান চেতনার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একঝলকে

  • ঘটনার স্থান: আদমপুর থানা এলাকা, আমরোহা জেলা, উত্তরপ্রদেশ।
  • শিকার: ১৩-১৪ বছর বয়সী এক কিশোর।
  • মূল কারণ: তান্ত্রিকের নিদানে সাপের বিষ নামাতে গঙ্গার জলে ১২ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখা।
  • পরিণতি: সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকাল মৃত্যু।
  • সামাজিক চিত্র: প্রত্যক্ষদর্শী জনতার নিস্পৃহতা ও কুসংস্কারের জয়জয়কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *