গরমের তীব্রতায় হঠাৎ নাক দিয়ে রক্তপাত কেন হয় এবং বন্ধ করার সহজ উপায় জানুন

গ্রীষ্মের দাবদাহ ও তীব্র লু হাওয়ায় সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘এপিস্ট্যাক্সিস’ বলা হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে শরীর মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই মূলত এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, গরমকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় নাসিকারন্ধ্রের ভেতরের শ্লেষ্মাঝিল্লি বা পাতলা পর্দা শুকিয়ে যায়। নাকের ভেতরের চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি থাকে। বাতাসে শুষ্কতা বাড়লে এই রক্তনালিগুলো ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। এছাড়া অতিরিক্ত গরম বাতাস, বারবার হাঁচি বা জোরে নাক ঝাড়ার ফলেও এই সমস্যা প্রকট হতে পারে।
শুধুমাত্র আবহাওয়া নয়, শারীরিক কিছু জটিলতাও এই রক্তপাতের পেছনে দায়ী হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। পাশাপাশি অ্যালার্জি, সাইনাস বা নাকে কোনো ইনফেকশন থাকলেও গরমের সময় রক্তপাতের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। তাই সমস্যাটি নিয়মিত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা হয়ে বসিয়ে মাথা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে হবে, যাতে রক্ত গলার ভেতরে চলে না যায়। এরপর নাকের নরম অংশ আঙুল দিয়ে চেপে ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। কপাল বা নাকের ওপর বরফ বা ঠান্ডা জল দিলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্তপাত দ্রুত বন্ধ হয়।
গরমের এই সমস্যা প্রতিরোধে শরীর হাইড্রেটেড রাখা বা পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাকের ভেতর শুষ্কতা কমাতে নারকেল তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার বা গরম ভাপ নিলে নাসিকারন্ধ্র সতেজ থাকে। সঠিক সতর্কতা ও সচেতনতাই গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।