গরমের মাঝেই দুঃসংবাদ! বিয়ারের বোতল ও ক্যানে টান, দাম বাড়ার আশঙ্কায় কো ম্পা নিগুলো

গরমের মাঝেই দুঃসংবাদ! বিয়ারের বোতল ও ক্যানে টান, দাম বাড়ার আশঙ্কায় কোম্পানিগুলো

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে ভারতের মদের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিয়ারের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে এবার সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক বহুজাতিক কো ম্পা নি।

সংকটের মূলে প্যাকেজিং উপকরণের অভাব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় কাচের বোতল ও অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের ওপর।

  • সীমিত সরবরাহ: স্থানীয় উৎপাদকরা বর্তমানে তাদের পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে বাজারে বোতল ও ক্যানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
  • আমদানিতে আকাশছোঁয়া খরচ: সংকট মেটাতে অন্য দেশ থেকে প্যাকেজিং সামগ্রী সংগ্রহ করতে গেলে খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এমনিতেই কাঁচামালের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
  • শুল্ক ছাড়ের আবেদন: এই পরিস্থিতিতে কাচের বোতল ও অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের ওপর থাকা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে ‘ফেডারেশন অফ ইউরোপিয়ান বিজনেসেস ইন ইন্ডিয়া’। এই জোটে পার্নো রিকার্ড, হাইনেকেন এবং কার্লসবার্গের মতো নামী সংস্থা রয়েছে।

চাপের মুখে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের মদের বাজার

ভারতের বিশাল এই মদের বাজার বর্তমানে ত্রিমুখী সংকটের মুখোমুখি। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে দেশেও সরবরাহ কম।

১. মূল্য বৃদ্ধিতে আইনি বাধা: ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যে মদের দাম বাড়াতে গেলে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও কো ম্পা নিগুলো চাইলেই গ্রাহকের ওপর সেই বোঝা চাপাতে পারছে না।

২. রুপির দুর্বল অবস্থান: আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের তুলনায় রুপির মান কমে যাওয়ায় আমদানিকারকদের ওপর আর্থিক চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

৩. রাজস্বের ঝুঁকি: বিয়ার শিল্প থেকে প্রতি বছর সরকার প্রায় ৫.৫২ বিলিয়ন ডলার কর পায়। উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যাহত হলে সরকারি কোষাগারেও বড় ধরনের টান পড়তে পারে।

কেন বিয়ার প্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

গরমের মরসুমে সাধারণত বিয়ারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। কিন্তু ব্রুয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া জানাচ্ছে যে, কাচ ও অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানের সরবরাহ যেভাবে কমছে, তাতে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। যদি সরকার আমদানি শুল্ক না কমায় বা কো ম্পা নিগুলোকে দাম বাড়ানোর অনুমতি না দেয়, তবে বাজারে বিয়ারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে অথবা যেকোনো সময় দাম অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

একঝলকে

  • মূল সমস্যা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে প্যাকেজিং সামগ্রীর (বোতল ও ক্যান) সংকট।
  • দাবি: আমদানিকৃত বোতল ও ক্যানের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক মকুব করা।
  • আবেদনকারী: পার্নো রিকার্ড, হাইনেকেন ও কার্লসবার্গের মতো বড় কো ম্পা নি।
  • আর্থিক প্রভাব: কাঁচামালের খরচ ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধির আশঙ্কা।
  • সরকারি প্রভাব: সরবরাহ ব্যাহত হলে ৫.৫২ বিলিয়ন ডলারের কর রাজস্ব ঝুঁকির মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *