গাজর কামড়ে চিনের প্রাচীর বানাচ্ছেন তরুণী, দাঁতের নিখুঁত কাজ দেখে তাজ্জব দুনিয়া

যন্ত্রপাতি বা ছেনি-হাতুড়ি নয়, শুধুমাত্র দাঁত দিয়ে গাজর কামড়ে বিস্ময়কর সব ভাস্কর্য তৈরি করছেন চিনের এক তরুণী। ২৫ বছর বয়সী চেন কিন হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর তৈরি করা গাজরের ভাস্কর্যের মধ্যে চিনের মহাপ্রাচীর থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী রাজমুকুট বা ইয়েলো ক্রেন টাওয়ারের মতো জটিল স্থাপত্যও রয়েছে। অদ্ভুত এই প্রতিভার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছেন চেন, বর্তমানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
পেশায় ভাস্কর না হলেও চেন কিন গ্রাফিক ডিজাইন ও থ্রি-ডি মডেলিংয়ের ছাত্রী। গত বছর চান্দ্র নববর্ষের ছুটিতে গাজর খাওয়ার সময় হঠাৎ করেই তাঁর মাথায় এই অভিনব ভাবনা আসে। অবচেতন মনে কামড় দিতে গিয়ে গাজরের গায়ে ফুটে ওঠা সুন্দর এক আকৃতিই তাঁকে এই পথে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে গত কয়েক মাসে তিনি গাজর কামড়ে শতাধিক ভাস্কর্য তৈরি করে নেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন।
চেনের এই শিল্পকর্ম এতটাই নিখুঁত যে অনেকে প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাননি। দর্শকদের সন্দেহ দূর করতে তিনি ভিডিওতে প্রতিটি ধাপ কামড়ে কামড়ে দেখান। তাঁর কাজের সূক্ষ্মতা দেখে নেটিজেনদের অনেকেই মজা করে বলছেন যে, তরুণীর মুখে হয়তো কোনো অদৃশ্য থ্রি-ডি প্রিন্টার লুকানো আছে। মিউ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রুপার টুপির আদলে গাজরের তৈরি মুকুটটি সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে এই অনন্য প্রতিভার পেছনে রয়েছে শারীরিক পরিশ্রম ও ঝুঁকি। চেন জানিয়েছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাজর কামড়ানোর ফলে তাঁর দাঁত ও চোয়ালে অসহ্য ব্যথা হয়। এমনকি অত্যধিক চাপের কারণে তাঁর চোয়ালের গঠনও আগের তুলনায় চওড়া হয়ে গেছে। দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি এখন মিষ্টি ও ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যেন ছোটরা শখের বসে এই কাজ অনুকরণ না করে।
পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য উদাহরণও তৈরি করেছেন এই তরুণী। চেনের পরিবারের নিজস্ব খামার থাকায় ভাস্কর্য তৈরির পর গাজরের অবশিষ্টাংশগুলো মোটেই অপচয় হয় না। সেগুলো দিয়ে হয় বাড়িতে রান্না করা হয়, অথবা খামারের পশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে চেনের পরবর্তী লক্ষ্য হলো চিনের বিখ্যাত ধ্রুপদী চিত্রকর্ম ‘অ্যালং দ্য রিভার ডিউরিং দ্য কিং মিং ফেস্টিভ্যাল’-এর দৃশ্য গাজরের গায়ে খোদাই করা।