গুগল জেমিনি লাইভে কিশোরের অনৈতিক আচরণে বিপাকে পরিবার, সব অ্যাকাউন্ট আজীবনের জন্য ব্লক

ব্রিটেনের একটি পরিবার তাদের সমস্ত গুগল অ্যাকাউন্ট হারিয়ে চরম বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে। পরিবারের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, বাড়ির সবাই মিলে ব্যবহার করেন এমন একটি ট্যাবলেটের মাধ্যমে ওই কিশোর গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন টুল ‘জেমিনি লাইভ’ ব্যবহার করে কিছু কুরুচিপূর্ণ ও অনৈতিক কাজ করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরটি জেমিনি লাইভের ক্যামেরা ফিচার ব্যবহার করে অশালীন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল। গুগলের স্বয়ংক্রিয় এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরের বয়স এবং তার কার্যকলাপ শনাক্ত করে ফেলে। এর পরেই গুগলের নিরাপত্তা বিভাগ সতর্ক হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রতিটি ডিজিটাল প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গুগলের এই কঠোর পদক্ষেপে শুধুমাত্র ওই কিশোরের অ্যাকাউন্ট নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত এক দশক ধরে জমানো ইমেল, গুগল ড্রাইভে থাকা জরুরি নথিপত্র এবং ব্যবসায়িক তথ্য এক রাতেই হারিয়ে গেছে। ডিজিটাল এই বিপর্যয়ের ফলে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অ্যাকাউন্টগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের ব্যবসার বুকিং এবং গ্রাহক সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য গুগলের মাধ্যমেই সংরক্ষিত ছিল, যা এখন আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পরিবারের এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সদস্য তার গবেষণাপত্র গুগল ডক্সে সেভ করে রেখেছিলেন, যা হারিয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গুগল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ‘শিশু সুরক্ষা’ ও ‘নিরাপত্তা নীতিমালা’ লঙ্ঘনের দায়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাইনর বা অপ্রাপ্তবয়স্করা যদি এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার যৌন উদ্দীপক বা নীতিমালা পরিপন্থী কাজ করে, তবে সেই অ্যাকাউন্টগুলো আর কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আইনি জটিলতা এড়াতে গুগল এই বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়।
এই ঘটনাটি আধুনিক বিশ্বে ক্লাউড পরিষেবা এবং ডিজিটাল নির্ভরতার ঝুঁকির দিকটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিশুদের ওপর নজরদারি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি ছোট ভুল যে পুরো পরিবারের ডিজিটাল অস্তিত্ব মুছে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক বড় প্রমাণ।