গুড ফ্রাইডে: যিশুর আত্মত্যাগ ও এই নামকরণের নেপথ্যে আসল কারণ

আজ পবিত্র ও শোকাবহ গুড ফ্রাইডে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই দিনে জেরুজালেমের গালীল অঞ্চলে মানবতা ও অহিংসার প্রচারক যিশু খ্রিস্টকে হাজার হাজার মানুষের সামনে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। যিশুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও শিক্ষার প্রসারে ঈর্ষান্বিত হয়ে তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মীয় নেতারা রোমান শাসক পিলাতের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা অভিযোগ আনেন। এর ফলে যিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের পর কাঁটার মুকুট পরিয়ে ক্রুশবিদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।
যিশুর এই আত্মত্যাগের দিনটিকে কেন ‘গুড’ বা ভালো বলা হয়, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। বাইবেল অনুযায়ী, মৃত্যুর দিনটি জন্মের চেয়েও পবিত্র, তাই একে ‘গুড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ভাষাবিদ মনে করেন, ল্যাটিন ভাষায় ‘গুড’ শব্দের অর্থ ‘পবিত্র’, যা থেকে দিনটি ‘হোলি ফ্রাইডে’ বা ‘পবিত্র শুক্রবার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আবার অনেকে একে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ বা ‘গ্রেট ফ্রাইডে’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
এই বিশেষ দিনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ও নীরবতা পালন করেন। অনেকে উপবাসের মাধ্যমে যিশুর অসীম ত্যাগ ও করুণাকে স্মরণ করেন। মূলত যিশুর মৃত্যু মানবজাতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও ঈশ্বরের মহিমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলেই শোকের আবহ থাকলেও দিনটিকে আধ্যাত্মিকভাবে কল্যাণকর বা ‘শুভ’ হিসেবে পালন করা হয়। সংক্ষিপ্ত ও সাবলীলভাবে যিশুর এই মহাপ্রয়াণ দিবসটি বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।