গ্যাস সংকটে মাথায় হাত হুগলিবাসীর গৃহস্থের হেঁশেল বাঁচাতে ত্রাতা হয়ে উঠল পাড়ার রুটির দোকান

গ্যাস সংকটে মাথায় হাত হুগলিবাসীর গৃহস্থের হেঁশেল বাঁচাতে ত্রাতা হয়ে উঠল পাড়ার রুটির দোকান

রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে নাজেহাল হুগলি জেলার সাধারণ মানুষ। চুঁচুড়া থেকে চন্দননগর কিংবা ডানকুনি থেকে শ্রীরামপুর— সর্বত্রই ছবিটা প্রায় এক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাতেরবেলায় রান্নার পাট চুকিয়ে আমজনতা এখন ভিড় জমাচ্ছেন রাস্তার ধারের রুটির দোকানগুলিতে। ফলে মাছে-ভাতে বাঙালির চিরচেনা খাদ্যাভ্যাসেও কার্যত বদল আসতে শুরু করেছে।

জেলায় গ্যাসের হাহাকার দেখা দেওয়ায় গৃহস্থালির পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল এবং রেস্তোরাঁগুলিতেও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে রোগীদের পথ্য সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে কয়লা বা মাটির উনুনে চলা রুটির দোকানগুলি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে গ্রাহকের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। কোথাও বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে, কোথাও আবার অচেনা ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রুটির সঙ্গে ঘুগনি, আলুর দম বা মাংসের ঝোল পাওয়া যায় এমন দোকানগুলিতে লাইন দীর্ঘতর হচ্ছে।

ডানকুনি বা শ্রীরামপুরের বাসিন্দাদের মতে, গ্যাসের যা সংকট তাতে বাড়িতে রান্না করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই খরচ বাঁচাতে এবং অনিশ্চয়তা এড়াতে দোকান থেকে রুটি-তরকারি কিনে রাত পার করছেন অনেকে। অন্যদিকে, এই সুযোগে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন ছোট রুটি বিক্রেতারা। তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মনেও আশঙ্কা দানা বাঁধছে। সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাসের এই বিপর্যয়ে হুগলির জনজীবনে এখন রুটিই হয়ে উঠেছে প্রধান সহায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *