গ্যাস সরবরাহে নিয়মে ছাড় কেন্দ্রের, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে ফিরছে স্বস্তি

গ্যাস সরবরাহে নিয়মে ছাড় কেন্দ্রের, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে ফিরছে স্বস্তি

দেশের বাজারে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কড়া অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের জন্য অপরিহার্য প্রোপিলিনের সরবরাহ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রিফাইনারিগুলোকে। এর ফলে এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে প্লাস্টিক, প্যাকেজিং এবং কনডম শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে যে কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো। বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ৯ মার্চ একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেখানে রিফাইনারিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে প্রোপেন, বিউটেন এবং প্রোপিলিনের সম্পূর্ণ অংশ এলপিজি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। ফলে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে প্রোপিলিনের জোগান প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে এফএমসিজি, খাদ্য ও পানীয় এবং প্যাকেজিং সেক্টরে। বর্তমান পরিস্থিতির পর্যালোচনার পর সরকার জানিয়েছে যে রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে কাঁচামালের একটি অংশ এখন থেকে বরাদ্দ করা হবে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাত শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। ইরান সংকটের ফলে ওই সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটায় দেশীয় উৎপাদন সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করছিল সরকার। তবে শিল্পের স্বার্থে এখন নিয়মে শিথিলতা আনা হয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ, ইস্পাত ও অটোমোবাইল শিল্পের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলোকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।

বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকারের তালিকা স্পষ্ট করেছে সরকার। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারের সুযোগ নেই এমন শিল্প ইউনিটগুলো বাড়তি বরাদ্দে প্রাধান্য পাবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোকে মোট বাণিজ্যিক বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক অংশ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। গত ১৪ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার টন বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর।

সরকার আশ্বস্ত করেছে যে শিল্পের জন্য নিয়ম শিথিল করা হলেও সাধারণ গৃহস্থালির এলপিজি গ্রাহকদের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দেশের প্রতিটি কোণায় রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাই প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের মতো সহায়ক শিল্পগুলো কাঁচামাল ফিরে পাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা আবার সচল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপ একদিকে যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে শিল্পক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *