চন্দ্রকোণায় ঘাসফুলের বাজি ‘মাটির মানুষ’ সূর্যকান্ত, নবীন প্রার্থীর তেজে ব্যাকফুটে বিজেপি

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা বিধানসভায় এবার তৃণমূলের তুরুপের তাস নবীন মুখ সূর্যকান্ত দলুই। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর থেকে উঠে আসা ৪৪ বছর বয়সি এই লড়াকু নেতাকে প্রার্থী করায় স্থানীয় জনমানসে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সদা হাস্যময় ও মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত সূর্যকান্তের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে বর্তমান রাজনৈতিক আবহে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত দলুই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তৃণমূল প্রার্থী বদল করায় তাঁদের লড়াই এবার কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং এলাকার উন্নয়নই এখন প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিজেপি প্রার্থী অনুন্নয়ন ও জলযন্ত্রণার অভিযোগ তুললেও পালটা জবাবে তৃণমূল বলছে, কেন্দ্রের অসহযোগিতা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চন্দ্রকোণায় প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে আলু চাষিদের স্বার্থরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বার্তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। ২০২১-এর বিধানসভা এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের ধারা বজায় রেখে এবার ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে শাসক দল।
৩২৯টি বুথেই জোরকদমে চলছে কর্মিসভা ও জনসংযোগ। সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী দিলেও মূল লড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী ভগোবন্তপুর অঞ্চলের ভোট এবার জয়-পরাজয়ের ব্যবধানে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। আলু উৎপাদনকারী এই অঞ্চলে কৃষকদের সমস্যাকে বিজেপি হাতিয়ার করার চেষ্টা করলেও, স্থানীয় স্তরে সূর্যকান্তর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের উন্নয়নমূলক প্রচার লড়াইয়ে তাঁদের অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রেখেছে।