চন্দ্রাভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানে শৌচালয় বিপর্যয়: দুর্গন্ধ ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে নাজেহাল চার মহাকাশচারী

নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানে চাঁদের পথে পাড়ি দেওয়া ওরিয়ন মহাকাশযানে শৌচালয় নিয়ে চরম বিপত্তি দেখা দিয়েছে। উৎক্ষেপণের পর থেকেই মহাকাশযানটিতে শৌচালয়ের উৎকট গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বলে নাসা সূত্রে খবর। ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক ধারণা, বরফ জমে যাওয়ার কারণে প্রস্রাব ঠিকমতো ফ্লাশ করা যাচ্ছে না, যা থেকে এই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশন কন্ট্রোল থেকে মহাকাশচারীদের বিকল্প হিসেবে প্রস্রাব জমা রাখার বিশেষ ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হানসেন। ভিক্টর গ্লোভার জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে ক্রমে ছোট এবং চাঁদকে অনেক বড় দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁরা অভিযানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবিও তুলেছেন। চার মহাকাশচারীর মধ্যে তিনজন আমেরিকার ও একজন কানাডার নাগরিক। যান্ত্রিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তাঁরা সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অভিমুখে এগিয়ে চলেছেন।
ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে চার লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে চাঁদের উল্টো দিক থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। সোমবারের মধ্যে তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছোনোর কথা রয়েছে। এর আগে অ্যাপোলো-১৩ এই ধরনের জটিল পথ অতিক্রম করেছিল। ওরিয়ন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ডেবি কর্থ স্বীকার করেছেন যে, মহাকাশে শৌচালয় ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মিশন ম্যানেজমেন্ট আশ্বস্ত করেছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রশিক্ষণ মহাকাশচারীদের রয়েছে।