চাঁদের অন্ধকার দিকের অভূতপূর্ব ছবি পাঠাল নাসার আর্তেমিস ২, দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব

চাঁদের অন্ধকার দিকের অভূতপূর্ব ছবি পাঠাল নাসার আর্তেমিস ২, দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার ‘আর্তেমিস ২’ মিশন। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর চন্দ্রাভিযানে যাওয়া এই মহাকাশযানটি এবার চাঁদের সেই রহস্যময় অন্ধকার দিকের ছবি পাঠিয়েছে, যা এতদিন মানুষের দৃষ্টির আড়ালে ছিল। আর্তেমিস ২-এর ওরিয়ন স্পেসক্রাফট চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার সময় এই অনালোকিত অংশে আলো ফেলে অমসৃণ চন্দ্রপৃষ্ঠের স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছে। মহাকাশযান থেকে পাঠানো সেই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন এলন মাস্ক, যেখানে চাঁদের বুকে অজস্র খানাখন্দ এবং রুক্ষ জমির দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

তিন মার্কিন এবং এক কানাডীয় নভোশ্চরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রওনা দিয়েছিল এই শক্তিশালী মহাকাশযান। সোমবার সন্ধ্যায় সেটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী ১০ দিন মহাকাশচারীরা ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের চারপাশ ঘুরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। তবে নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্তেমিস ২ চন্দ্রপৃষ্ঠকে প্রদক্ষিণ করলেও এই অভিযানে কোনো নভোশ্চর আপাতত চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না।

ছবি সংগ্রহের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তে মহাকাশযানটির সঙ্গে নাসার স্পেস নেটওয়ার্কের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ৪০ মিনিট সম্পূর্ণ অন্ধকারে চাঁদের উলটো পিঠে অবস্থান করার পর ওরিয়ন পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে। এই সময়টুকুর মধ্যেই ক্যামেরাবন্দি হয়েছে চাঁদের অদেখা রূপ। এর আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর্তেমিস ২ মহাকাশযানের জানালা দিয়ে নীল গ্রহের বেশ কিছু উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি পাঠিয়েছিল, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগর ও মেঘমালার অপরূপ বিন্যাস দেখা গিয়েছিল।

বর্তমানের এই নয়া আবিষ্কার নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরু ও অন্ধকার পিঠের ভৌগোলিক গঠন বুঝতে এই ছবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মহাকাশযানের সংগৃহীত এই তথ্য ও ভিডিওচিত্র আগামী দিনের জটিল চন্দ্রাভিযানগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। আপাতত চাঁদের সেই ‘খুঁত’ বা অমসৃণ রূপ নিয়েই বিশ্বজুড়ে চলছে জোর চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *