চাঁদের পাথরে তীব্র চৌম্বকীয় আকর্ষণ: রহস্যভেদ করলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা

চাঁদের পাথরে তীব্র চৌম্বকীয় আকর্ষণ: রহস্যভেদ করলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা

অ্যাপোলো অভিযানে সংগৃহীত ৩৫০ কোটি বছরের পুরনো চন্দ্রপৃষ্ঠের পাথরে পৃথিবীর চেয়েও শক্তিশালী চৌম্বকীয় আবেশ দেখে দীর্ঘকাল ধরে বিস্মিত ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘নেচার জিওসায়েন্স’ পত্রিকায় এই রহস্যের সমাধান করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ লাভার প্রবাহের ফলে সৃষ্ট বিরল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনই এই শক্তিশালী চৌম্বকত্বের মূল কারণ।

কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চাঁদের ম্যান্টেলের গভীরে টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ উপাদানের গলন তাপপ্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে ‘চৌম্বকত্বের বিস্ফোরণ’ ঘটিয়েছিল। এই ঘটনাটি চাঁদের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র কয়েক হাজার বছর স্থায়ী ছিল। অ্যাপোলো মহাকাশযানটি কাকতালীয়ভাবে ‘মেয়ার ব্যাসল্ট’ সমৃদ্ধ এমন এক এলাকায় অবতরণ করেছিল, যেখানে টাইটানিয়ামের আধিক্যের কারণে পাথরের নমুনায় এই অস্বাভাবিক চৌম্বকীয় গুণাবলি ধরা পড়ে।

গবেষক ক্লেয়ার নিকোল্‌স জানিয়েছেন, চাঁদের সার্বিক চৌম্বকক্ষেত্র দুর্বল হলেও এই বিশেষ খনিজ বিন্যাস বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করেছিল। যদিও তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে এই তত্ত্বের কিছু ফাঁক রয়ে গেছে, তবুও এটি চন্দ্রপৃষ্ঠের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। ভবিষ্যতে আরও অধিক নমুনার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী চৌম্বকীয় ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *