চাঁদ জয়ের দোরগোড়ায় আর্টেমিস ২ মিশন, ৫৪ বছর পর লুনার কক্ষপথে ফিরছে মানুষ

চাঁদ জয়ের লক্ষ্যে ৫৪ বছর পর আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বুধবার আর্টেমিস-২ মিশনের অধীনে চার মহাকাশচারী ১০ দিনের চন্দ্র সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের এত কাছে পৌঁছতে চলেছে। এই মিশনের সাফল্য মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্টেমিস-২ মিশনের এই মহাকাশযানটি সরাসরি চাঁদের পিঠে অবতরণ না করলেও তার অত্যন্ত নিকটবর্তী কক্ষপথ দিয়ে প্রদক্ষিণ করবে। বিশেষ করে চাঁদের সেই দূরবর্তী ও অদেখা অংশটির প্রায় ৭০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা অতিক্রম করবে এই যান, যা এর আগে কোনো মানববাহী মিশন স্পর্শ করতে পারেনি। মহাকাশচারীরা এই প্রথম অত্যন্ত কাছ থেকে চাঁদের গূঢ় রহস্যগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন।
এই মিশনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর বিচিত্র ও দক্ষ সদস্য দল। চারজনের এই দলে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। নাসার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চন্দ্র অভিযানে নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যময় দল চাঁদের পথে পাড়ি দিয়ে নতুন সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঐতিহাসিক এই উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে সমুদ্রতট ও পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলোতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজারো উৎসাহী মানুষ। শেষবার ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে মানুষ চাঁদে গিয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর নাসার এই নতুন উদ্যোগ ষাটের দশকের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। উৎক্ষেপণের পর অভিযাত্রী দল জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে উদীয়মান চাঁদের দৃশ্য অত্যন্ত চমৎকার এবং তারা সরাসরি সেই লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এই মিশনটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণ। নাসা জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর যানের শৌচাগার বিভ্রাট ও যোগাযোগের সাময়িক বিচ্ছিন্নের মতো কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। হাইড্রোজেন লিক ও লঞ্চ অ্যাবোর্ট সিস্টেমে ত্রুটির কারণে এর আগেও মিশনটি পিছিয়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই মিশনের সাফল্যের সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
আর্টেমিস-২ মূলত ২০২৭ ও ২০২৮ সালের পরবর্তী মিশনগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। নাসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি এবং রোবোটিক রোভার পরিচালনা করা। এই মিশনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষ আবারও দীর্ঘস্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই মেগা প্রজেক্ট এখন গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে।