চাঁদ জয় করে ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস ২, ভাঙল অ্যাপোলো ১৩-র ৫০ বছরের পুরনো রেকর্ড

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। চার মহাকাশচারীকে নিয়ে এই মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে সফলভাবে প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছে। এই যাত্রাপথেই রচিত হয়েছে এক অনন্য রেকর্ড, যা মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের সক্ষমতাকে আরও একবার বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করল।
সোমবার রাতে নাসার এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব অতিক্রম করে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আর্টেমিস ২-এর মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫২ মাইল দূরে পৌঁছে যান, যা এ যাবৎকালে মানুষের পৌঁছানো দীর্ঘতম দূরত্ব। এর আগে অ্যাপোলো ১৩-র দখলে থাকা ২,৪৮,৬৫৫ মাইলের রেকর্ডটি গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অক্ষুণ্ণ ছিল।
এই অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো চাঁদের সেই অন্ধকার বা দুর্গম অংশ পরিদর্শন করা, যা এর আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। মহাকাশচারীরা চাঁদের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় অভূতপূর্ব কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও আইফোনের মাধ্যমে তারা পৃথিবী ও চাঁদের অসাধারণ সব ছবি তুলেছেন।
মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন জানিয়েছেন, কাছ থেকে চাঁদকে বাদামি বর্ণের দেখায়। অন্যদিকে পাইলট ভিক্টর গ্লোভারের মতে, চাঁদের কিছু পাহাড় এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে সেগুলোকে বরফে ঢাকা বলে মনে হচ্ছিল। ফেরার পথে এই চার অভিযাত্রী একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী হন, যা মহাকাশযান থেকে দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা।
আর্টেমিস ২ মিশনের এই সাফল্য আগামী দিনে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের অবতরণের পথকে প্রশস্ত করল। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিজয় নয়, বরং মানুষের সাহস ও অজানাকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সফলভাবে কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে মহাকাশচারীরা এখন নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।