চাকরিহীন তরুণ ও ধনীদের দেশত্যাগ, চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কি তবে ধ্বংসের পথে

চাকরিহীন তরুণ ও ধনীদের দেশত্যাগ, চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কি তবে ধ্বংসের পথে

চাকচিক্যময় ভাবমূর্তির আড়ালে চীনের অর্থনীতি এখন এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। সরকারিভাবে স্থিতিশীলতার দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দ্য ইপোক টাইমস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাধারণ নাগরিকরা বর্তমানে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন। বেতন ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়া, লাগাতার কর্মী ছাঁটাই এবং ছোট-বড় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে। বেইহাই শহরের এক চিকিৎসকের উদাহরণে দেখা গেছে, মহামারির পর বিদেশি বিনিয়োগ কমতেই তাঁর মাসিক আয় ২০ হাজার ইউয়ান থেকে কমে ১০ হাজার ইউয়ানের নিচে নেমে এসেছে।

শুধু সাধারণ কর্মজীবীই নন, চীনের সরকারি কোষাগারেও এখন টান পড়েছে। অনেক প্রদেশে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে স্থানীয় প্রশাসন। বেসরকারি সংস্থাগুলো টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে এবং বিদেশি সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ায় বেকারত্ব আকাশছোঁয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার দেশের যুবসমাজ। উচ্চশিক্ষিত তরুণরা মাসের পর মাস বেকার থাকছেন অথবা নামমাত্র বেতনে ফুড ডেলিভারির মতো অস্থায়ী কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই হতাশা থেকে তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক জীবন ছেড়ে ‘বিশ্রাম নেওয়া’র এক নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক এই ডামাডোলে সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন দেশের ধনী পরিবারগুলো দ্রুত সম্পদ ও পরিবার নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার জেরে বিত্তশালীদের এই দেশত্যাগ প্রমাণ করে যে, তারা নিজ দেশের অর্থনীতির ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। একদিকে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব আর অন্যদিকে ধনীদের পুঁজি সরিয়ে নেওয়া—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চীনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এখন কার্যত অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *