চাকরি ছাড়লে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে বকেয়া টাকা, নতুন শ্রম আইনে কর্মীদের জন্য বড় উপহার

আজ ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নতুন শ্রম আইন বা কোড অন ওয়েজেস। এর ফলে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া বা ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। এখন থেকে কোনও কর্মী চাকরি ছাড়লে কো ম্পা নিকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার সমস্ত বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। আগে এই পূর্ণাঙ্গ সেটেলমেন্টের জন্য সাধারণত ৪৫ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো।
নতুন আইনের ১৭(২) ধারা অনুযায়ী, কর্মীর শেষ কর্মদিবসের পর দুদিনের মধ্যে বেতন, অর্জিত ছুটির টাকা এবং অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনও সংস্থা এই সময়সীমার মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মী শ্রম দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ দাবি করার আইনি অধিকারও থাকবে কর্মীদের। কো ম্পা নিগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শ্রম আইনে গ্র্যাচুইটির নিয়মেও আনা হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আগে একই সংস্থায় টানা ৫ বছর কাজ না করলে গ্র্যাচুইটি পাওয়া যেত না। নতুন নিয়মে মাত্র ১ বছর কাজ করলেই কর্মীরা গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। চাকরি ছাড়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। এটি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবর্তন আসছে বেতন পরিকাঠামোতেও। এখন থেকে মোট বেতনের বা সিটিসির অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে ‘বেসিক পে’ বা মূল বেতন। মূল বেতন বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ-এর ওপর। প্রতি মাসে পিএফ অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ বাড়বে, যা কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় ও অবসরের পরবর্তী জীবনকে আরও সুরক্ষিত করবে। যদিও এর ফলে মাসে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ সামান্য কমতে পারে।
তবে এই সুবিধাগুলি নিশ্চিত করতে কর্মীদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নোটিশ পিরিয়ড সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে কো ম্পা নি সেটেলমেন্টের টাকা থেকে নির্দিষ্ট অংশ কেটে নিতে পারে। পাশাপাশি, কর সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে সঠিক সময়ে বিনিয়োগের নথি জমা দেওয়া জরুরি। এপ্রিলের শুরু থেকেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলো কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করছে।