চিকিৎসা জগতের নক্ষত্র পতন ১০৬ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি ছেত্রী

ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে ১০৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন প্রবাদপ্রতিম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মণি ছেত্রী। রবিবার সন্ধ্যায় বালিগঞ্জ প্লেসের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শতায়ু চিকিৎসক। সম্প্রতি বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। ১৯২০ সালে দার্জিলিংয়ে জন্ম নেওয়া এই মহৎ প্রাণ চিকিৎসক বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশের মাটিতেই চিকিৎসাসেবা প্রদানের অনন্য নজির গড়েছিলেন।
ডাঃ মণি ছেত্রীর হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিক বিপ্লব সূচিত হয়েছিল। এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা থাকাকালীন তিনি রাজ্যে প্রথম ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (ITU) স্থাপন করেন এবং কার্ডিওলজি ও নেফ্রোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু করেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন।
অবসর গ্রহণের পরেও ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সক্রিয়ভাবে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে গিয়েছেন, যা পেশার প্রতি তাঁর গভীর নিষ্ঠার পরিচয় দেয়। এমনকি স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রতি তাঁর টান ছিল অমলিন। এই মহান চিকিৎসকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্যের চিকিৎসক সমাজ। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কালো ব্যাজ পরে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।