চিনকেও পাত্তা দিল না তালিবান, পাকিস্তানের তিন শর্ত খারিজ করে ভেস্তে গেল শান্তি বৈঠক

ডুরান্ড লাইন সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত মেটাতে চিনের মধ্যস্থতায় আয়োজিত শান্তি বৈঠক ফের ভেস্তে যাওয়ার মুখে। সম্প্রতি চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক শুরু হলেও পাকিস্তানের দেওয়া কড়া তিনটি শর্ত মানতে সাফ অস্বীকার করেছে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরবে আয়োজিত বৈঠকটিও একইভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, উরুমকি বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তিনটি মূল দাবি জানানো হয়। প্রথমত, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-কে সরকারিভাবে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে তালিবান সরকারকে। দ্বিতীয়ত, আফগান ভূখণ্ড থেকে টিটিপি-র সমস্ত কার্যকলাপ ও ঘাঁটি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, টিটিপি-র বিরুদ্ধে তালিবান প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তার সুনির্দিষ্ট ও উপযুক্ত প্রমাণ পাকিস্তানের কাছে পেশ করতে হবে।
আফগানিস্তান শুরু থেকেই পাকিস্তানের এই দাবিগুলো খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, টিটিপি পাকিস্তানের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর দায়ভার কোনোভাবেই আফগানিস্তানের ওপর চাপানো যায় না। তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান মিথ্যে অজুহাতে আফগান সীমান্তে বেআইনিভাবে বিমান হামলা চালিয়ে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বোমাবর্ষণে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়া এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনের অন্তত ৫৩টি স্থানে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি এই সীমান্তরেখা বরাবর উত্তেজনা কমাতে বেজিংয়ের প্রচেষ্টা আপাতত বিফলে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইক বনাম তালিবানের অনড় অবস্থান— এই দ্বৈরথে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার মেঘ দেখা দিচ্ছে।