চিনা অস্ত্রের চটকদারিতেই ডুবল ইরান? ইজরায়েলি হানায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ড্রাগনের বিখ্যাত প্রতিরক্ষা কবচ

চিনা অস্ত্রের চটকদারিতেই ডুবল ইরান? ইজরায়েলি হানায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ড্রাগনের বিখ্যাত প্রতিরক্ষা কবচ

নিউজ ডেস্ক। যুদ্ধের ময়দানে ফের একবার চূড়ান্ত ব্যর্থতার মুখে চিনা সামরিক প্রযুক্তি। যে HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে বেজিং ‘অজেয়’ বলে দাবি করেছিল, ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হানায় তা কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। তেহরান থেকে শুরু করে ইরানের একের পর এক শহর যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, তখন চিনা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টুঁ শব্দটিও করতে পারেনি। এমনকি এই বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর সামনে আসায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কাগজে বাঘ চিনা প্রযুক্তি? কেন ব্যর্থ হল HQ-9B

ইরান নিজের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে রাশিয়ার S-300 সিস্টেমের ওপর ভরসা হারিয়ে চিনের থেকে এই HQ-9B মিসাইল সিস্টেমটি সংগ্রহ করেছিল। তেলের বিনিময়ে হওয়া এই চুক্তিতে ইরান ভেবেছিল তারা আমেরিকার প্যাট্রিয়ট বা রাশিয়ার S-400-এর সমতুল্য কিছু পেয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা।

  • বিশাল দাবি বনাম শূন্য ফলাফল: চিনের দাবি অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি ২৬০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে থাকা যেকোনো মিসাইল বা যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করতে সক্ষম। একসঙ্গে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করা এবং ৬ থেকে ৮টি নিশানাকে মাঝ আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এটি। কিন্তু গত শনিবারের হামলায় ইজরায়েলি বায়ুসেনার সামনে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি অকেজো প্রমাণিত হয়েছে।
  • রাডারের ব্যর্থতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনা সিস্টেমের ‘অ্যাক্টিভ রাডার হোমিং’ প্রযুক্তি ইজরায়েলের আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোকে শনাক্তই করতে পারেনি। ফলে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র থেকে শুরু করে ড্রোন ঘাঁটি—সবই এখন ধ্বংসের মুখে।

ভারতের কাছেও পরাস্ত হয়েছিল এই চিনা অস্ত্র

এটিই প্রথম নয় যে চিনা HQ-9 সিস্টেম মুখ থুবড়ে পড়ল। এর আগে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময়ও ভারতীয় সেনার রণকৌশলের সামনে চিনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল। ভারতের অভিজ্ঞ সামরিক কর্তারা বহু আগেই জানিয়েছিলেন যে চিনা অস্ত্রের ক্ষমতা যতটা বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, বাস্তবে তার অর্ধেকও থাকে না। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দাবিকেই সিলমোহর দিল।

খামেনেইর মৃত্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ তেহরান সহ ইরানের ২৮টি প্রদেশে একযোগে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরেই চরম প্রতিশোধের ডাক দিয়েছে ইরান। পালটা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ছে তেহরান। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক বিশাল বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে চিনা অস্ত্রের ব্যর্থতা ইরানের পরাজয়কে আরও ত্বরান্বিত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *